লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দৌলতগঞ্জ গাজীমুড়া কামিল মাদ্রাসায় আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামের ইতিহাস, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ, কিরাত, হামদ-নাত, রচনা ও বক্তব্যসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে অনুষ্ঠানের শেষপর্বে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত ও উত্তম আদর্শ। তাঁর পবিত্র জীবন, ন্যায়নীতি, মানবিকতা, সহমর্মিতা, সততা ও ক্ষমাশীলতার শিক্ষা অনুসরণ করলেই একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি মহানবী (সা.)-এর আদর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তারা।
আলোচনা সভায় মাদ্রাসার শিক্ষকমণ্ডলী মহানবী (সা.)-এর জন্ম, শৈশব, নবুয়তপ্রাপ্তি, মক্কা-মদিনার জীবন এবং মানবতার কল্যাণে তাঁর অনন্য ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা ও সুন্নাহকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অনুসরণ করতে হবে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আবদুল হান্নান বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে দ্বীনি জ্ঞান ও নৈতিক চেতনা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, দৌলতগঞ্জ গাজীমুড়া কামিল মাদ্রাসা সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৬ সালে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল স্তরের মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম বিভাগে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
পুরস্কার বিতরণ শেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং মাদ্রাসার সার্বিক উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।


