লাকসাম প্রতিনিধি:
মানুষের জন্য মানুষ—এই চিরন্তন সত্যকে হৃদয়ে ধারণ করে নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চলেছেন এডভোকেট মুহাম্মদ বদিউল আলম সুজন। পেশাগত পরিচয়ে তিনি একজন আইনজীবী; তবে মানুষের ভালোবাসা, বিপদে সহমর্মিতা এবং অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাঁকে পরিচিত করেছে একজন দয়ালু, মানবিক ও জনবান্ধব মানুষ হিসেবে।
জীবনে অর্থ, বিত্ত কিংবা খ্যাতির চেয়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই যে বড় অর্জন—তাঁর বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তারই প্রতিফলন দেখা যায়। সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজনের সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াকে তিনি দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন। প্রচারের আলোয় নিজেকে তুলে ধরার চেয়ে মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন—এমনটাই তাঁর কর্মকাণ্ড থেকে প্রতীয়মান হয়।
করোনাভাইরাস মহামারির ভয়াবহ সময়ে যখন চারদিকে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক সংকট, তখন অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ঘরে দেখা দিয়েছিল খাদ্যসংকট। ঠিক সেই কঠিন সময়ে এডভোকেট বদিউল আলম সুজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ব-অর্থায়নে ঈদের আগে ১৭ দফায় প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। একই সময়ে তাঁর উদ্যোগে প্রায় ২৩২ ব্যাগ রক্ত বিনামূল্যে সরবরাহের কথাও সংবাদে উঠে আসে।
এই কর্মকাণ্ড শুধু সহায়তা দেওয়ার ঘটনা নয়; বরং সংকটের সময়ে একজন মানুষের আরেকজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যখন নিজের নিরাপত্তা নিয়েই মানুষ উদ্বিগ্ন, তখন অন্যের জীবন ও প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে এগিয়ে আসা নিঃসন্দেহে মানবিকতার পরিচয় বহন করে।
এডভোকেট বদিউল আলম সুজনের মানবিক কর্মকাণ্ডের পরিধি শুধু ত্রাণ বা আর্থিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা, ক্রীড়া, সামাজিক সচেতনতা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমেও তাঁর সম্পৃক্ততার খবর পাওয়া যায়। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই—এই বিশ্বাস থেকে তিনি ক্রীড়া কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন। লাকসাম ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকার কথা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
শিক্ষার উন্নয়ন ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমেও রয়েছে তাঁর সম্পৃক্ততা। শিক্ষার্থীদের সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ তৈরি করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টির বিভিন্ন উদ্যোগেও তাঁর অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারাবাহিকতার স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি। সমাজসেবা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য ২০২৫ সালে তাঁকে এশিয়ান লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-এর জন্য মনোনীত করার সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে।
তাঁকে যারা কাছ থেকে দেখেছেন, তাদের কাছে বদিউল আলম সুজনের সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর মানবিক মন। কারও দুঃখের কথা শুনলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া, অসহায় মানুষের প্রয়োজনে এগিয়ে আসা এবং সমাজের জন্য ইতিবাচক কিছু করার চেষ্টা—এসব গুণ তাঁকে আলাদা করে তুলেছে।
একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি আইন ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করেন; আর একজন মানবিক মানুষ হিসেবে তিনি মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন। তাঁর কর্মকাণ্ড যেন একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়—মানুষের জন্য করা ভালো কাজ কখনো ছোট হয় না, আর বিপদের দিনে বাড়িয়ে দেওয়া একটি সহযোগিতার হাতও একজন মানুষের জীবনে বড় আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।
লাকসামের মানুষের প্রত্যাশা, এডভোকেট মুহাম্মদ বদিউল আলম সুজন ভবিষ্যতেও তাঁর মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবেন। তাঁর মতো সমাজের দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ আরও বেশি করে মানুষের কল্যাণে এগিয়ে এলে একটি সুন্দর, সহমর্মী ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
মানুষের দুঃখে যিনি ব্যথিত হন, অসহায়ের প্রয়োজনে যিনি পাশে দাঁড়ান—সেই মানুষই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। আর সেই জায়গাটিই এডভোকেট বদিউল আলম সুজনের সবচেয়ে বড় অর্জন।


