Homeজাতীয়অপতথ্য ও গুজবের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

অপতথ্য ও গুজবের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা প্রতিনিধি:
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা বজায় রেখে দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কেউ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়—সবাই বাংলাদেশি। একটি শান্তিপূর্ণ, সম্প্রীতিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

একই সঙ্গে দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি মহল নানা ধরনের অপতথ্য, গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছে উল্লেখ করে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সমাজবিরোধী অপশক্তি যাতে কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা বাংলাদেশের ঐতিহ্য। এই সম্প্রীতি কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। দেশের সব নাগরিকের অধিকার সমান এবং জাতীয় ঐক্যই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।

তিনি বলেন, বিভেদ ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করে কোনো পক্ষ যেন রাজনৈতিক বা সামাজিক ফায়দা নিতে না পারে, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে। কোনো ধরনের গুজব বা অপতথ্য যাচাই না করে প্রচার না করার জন্যও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে কংসের মতো নিষ্ঠুর শাসক জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে জনগণ সেই ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়েছে। জনগণের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা, তা কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। দেশের মানুষকে বিভক্ত করে কোনো অপশক্তি যাতে আবারও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজবিরোধী অপশক্তি যেন কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তি, পুরোহিত ও সেবায়েতদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে তিনি ৯ জন পুরোহিত ও সেবায়েতের হাতে সম্মানীর অর্থ তুলে দেন। একই কর্মসূচির আওতায় সারা দেশের আরও ৬৪ জন পুরোহিত ও সেবায়েতকে সম্মানী দেওয়া হয়।

এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীকে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এর আগে সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের পাশাপাশি ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও প্রেস উইংয়ের সদস্যরা ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার সময় সড়কের পাশে থাকা পথচারীরা তাঁকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাঁদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহিষ্ণুতা ও জাতীয় ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে—ধর্মীয় পরিচয়ের বিভাজন নয়, বাংলাদেশি পরিচয় ও পারস্পরিক সহাবস্থানই হবে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments