Homeজাতীয়আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে বেড়েছে ৫,৪৮২ টাকা

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে বেড়েছে ৫,৪৮২ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
টানা তিন দফা দাম কমার পর দেশের বাজারে আবারও বড় ব্যবধানে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দর আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের তথ্য জানায় বাজুস। সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ দেশের বাজারে প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে—

  • ২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা
  • ২১ ক্যারেট: ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৯ টাকা
  • ১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৩ টাকা
  • সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮০ টাকা

অর্থাৎ, সর্বোচ্চ মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণ কিনতে এখন প্রতি ভরিতে আগের দরের তুলনায় ক্রেতাদের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বেশি ব্যয় করতে হবে।স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি ভ্যাট আদায়ের বিষয়েও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে বাজুস।

সংগঠনটি জানিয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে গ্রাহকের কাছ থেকে নির্ধারিত দামের বাইরে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।

তবে স্বর্ণের গহনা তৈরির ক্ষেত্রে নকশা, ডিজাইন ও কারুকাজ অনুযায়ী মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। ফলে একজন ক্রেতাকে গহনা কেনার সময় স্বর্ণের নির্ধারিত মূল্য ছাড়াও প্রযোজ্য মজুরি দিতে হবে।

বাজুস আরও জানিয়েছে, ভ্যাট, মজুরি এবং পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে স্বর্ণ ও রুপার গহনা বিনিময় কিংবা বেচাকেনার ক্ষেত্রে সংগঠনটির আগের নিয়মই বহাল থাকবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত এই নতুন মূল্য কার্যকর থাকবে।

স্বর্ণের দামে এই পরিবর্তন এসেছে মাত্র একদিনের ব্যবধানে। এর আগে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ৪ হাজার ২৩ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু একদিন পরই স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে আবারও দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিল বাজুস।

স্বর্ণের দাম নতুন করে বাড়ায় গহনা কিনতে আগ্রহী সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হবে। বিশেষ করে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনের জন্য যারা স্বর্ণের গহনা কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের আগের তুলনায় বেশি অর্থ গুনতে হবে।

ব্যবসায়ীদের মতে, স্বর্ণের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের দামের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হয়ে থাকে। তবে স্বর্ণের দাম বাড়া-কমার কারণে ক্রেতাদের মধ্যে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আগ্রহ ও উদ্বেগ দুটোই তৈরি হয়।

স্বর্ণের বাজারে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের দামসহ সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে বাজুস জানিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে মূল্য পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে ভবিষ্যতেও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় হতে পারে।

এদিকে মাত্র একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন হওয়ায় জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—উভয়ের নজর এখন পরবর্তী বাজার পরিস্থিতির দিকে।

নতুন দর কার্যকর হওয়ার ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম আবারও ২ লাখ ৩৭ হাজার টাকার ঘর ছাড়িয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments