নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে নির্গত গ্যাসে সৃষ্ট আগুনের প্রবাহ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কমে আসতে পারে বলে ধারণা করছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে পেট্রোবাংলা ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, আপাতত গ্যাস উন্মুক্তভাবে নির্গমনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্যাসের প্রবাহ না কমলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে আগামী ৪ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাবে। এতে সারাদেশে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
পেট্রোবাংলার জনসংযোগ বিভাগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী সেতু-সংলগ্ন এলাকায় গভীর নলকূপ খননের সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় এক হাজার ফুট গভীর পর্যন্ত খননের পর ভূগর্ভ থেকে গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে। একপর্যায়ে সেই গ্যাসে আগুন ধরে যায়।
ঘটনার পরপরই বাপেক্সের দুইজন ভূতত্ত্ববিদকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থান করে গ্যাস নির্গমনের পরিস্থিতি, আগুনের প্রবাহ ও সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, আগুনের বিস্তার রোধ এবং ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত গ্যাস উন্মুক্তভাবে নির্গমনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, আনুমানিক ১৫ দিনের মধ্যে গ্যাসের প্রবাহ কমে আসতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রবাহ না কমলে বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে অগ্নিনির্বাপণ এবং গ্যাসের প্রবাহ বন্ধের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের ১০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। পেট্রোবাংলা, বাপেক্স ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
অন্যদিকে, ঘটনাস্থল এলাকায় গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ ও ভূতাত্ত্বিক অবস্থান নিরূপণে জরিপ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ভূতাত্ত্বিক জরিপের পাশাপাশি দ্বিমাত্রিক (২ডি) সাইসমিক জরিপসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
৪ নভেম্বর থেকে কমছে গ্যাস সরবরাহ:
ইনানীতে গ্যাস নির্গমন ও আগুনের ঘটনা পর্যবেক্ষণের মধ্যেই দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে পেট্রোবাংলা। মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে আগামী ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত টার্মিনালটির রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
পেট্রোবাংলার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ সময় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসবে। অর্থাৎ প্রতিদিন সরবরাহ কমবে প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প পর্যায়ের গ্রাহকদের গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত বছরের ডিসেম্বরেও সামিট এলএনজি টার্মিনালে একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল। এবারও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে টার্মিনালের রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গ্যাস সরবরাহে সাময়িক বিঘ্নের কারণে গ্রাহকদের যে অসুবিধা হতে পারে, সে জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা।
সব মিলিয়ে, একদিকে উখিয়ার ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে নির্গত গ্যাসের আগুন নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, অন্যদিকে এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হ্রাস—দুই কারণে আগামী কয়েক দিন দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।


