শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক আবু ইসহাকের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর জন্মভূমি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় মাসব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন। ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনের প্রথম দিনে রোববার (১ নভেম্বর) নড়িয়া উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজনের লোগো ও মাসকট উন্মোচন, স্মারক বৃক্ষরোপণ এবং কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাকের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ আবু ইসহাকের স্মৃতি সংরক্ষণে নিজ অর্থায়নে তাঁর একটি মুরাল স্থাপনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নে কথাসাহিত্যিকের বাড়িতে একটি পাঠাগার ও মিলনায়তন নির্মাণের ঘোষণাও দেন তিনি।
উপজেলা প্রশাসনের ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে নড়িয়া উপজেলার ১৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে একটি করে কক্ষ ‘প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক’ নামে নামকরণ ও সজ্জিত করা। একই সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে দেয়ালিকা তৈরি ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
এ ছাড়া মাসব্যাপী গল্প বলার আসর, দেশীয় খেলাধুলা, পুঁথিপাঠ ও বই প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে। আগামী ২৯ নভেম্বর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মঞ্চনাটক ও রোড সাইন স্থাপন করা হবে। ৩০ নভেম্বর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে।
উল্লেখ্য, আবু ইসহাক ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর নড়িয়া উপজেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কালজয়ী উপন্যাস ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’ রচনার মাধ্যমে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’, ‘জাল’, ‘হারেম’ ও ‘মহাপতঙ্গ’। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে আবু ইসহাকের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি নড়িয়ার সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


