পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনায় ‘খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুল ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় এ প্লাসপ্রাপ্ত এবং প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার শ্রীপুরে খতিব আব্দুল জাহিদ স্কুল এন্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার মান বাড়াতে এ আয়োজন অব্যাহত রেখেছেন খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুল ট্রাস্ট। এর আওতায় এবারে এসএসসি ২০২৬ এ ৮ ও এইচএসএসি ২০২৫ এ একজন এ প্লাসপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধিত করা হচ্ছে। এছাড়া এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় এই জনপদের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ৬ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকেও সম্মাননা ও সংবর্ধনা দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় উৎসাহিত করতে সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আশা করি সংবর্ধিত শিক্ষার্থীরা এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতে আরও বড় সফলতা অর্জন করবে।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ জনাব মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত সাফল্য বজায় রাখছে। এই অর্জন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ট্রাস্টের এই সহযোগিতা আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে খতিব আব্দুল জাহিদ স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি ও ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা জনাব খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুল বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণে খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুল ট্রাস্ট সব সময় পাশে থাকবে। আমাদের লক্ষ্য এই অঞ্চলের শিক্ষার মান বাড়ানো এবং অর্থের অভাবে যাতে কোনো মেধাবীর পড়াশোনা আটকে না যায় তা নিশ্চিত করা। আজকের সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য আমাদের গর্বিত করেছে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, খতিব আব্দুল জাহিদ স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য মোনতাজ আলী, আসাদুজ্জামান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম।
আলোচনা সভা শেষে সংবর্ধিত ১৪ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও মেধা পুরস্কার তুলে দেন অতিথি বৃন্দ। অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়ে সংবর্ধনা পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে মো. ইরফান জানান, আজকের এই সংবর্ধনা আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় দারুণ অনুপ্রেরণা জোগাবে। এমন স্বীকৃতি কাজের দায়িত্ববোধ অনেক বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই সাফল্যের পেছনে পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। আমরা যেন আগামীতে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারি, সেজন্য সবার দোয়া প্রার্থী।
প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সামিয়া নওশীন বলেন, ছোটবেলাতেই ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এমন সম্মাননা পাবো, তা কখনো ভাবিনি। এই স্বীকৃতি আমার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রিয় শিক্ষক ও মা-বাবার দিকনির্দেশনাতেই আজ এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করে যেন বিদ্যালয় ও এলাকার মুখ উজ্জ্বল করতে পারি, এটাই আমার মূল লক্ষ্য।


