মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ:
কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের বানিজ্যিক শহর খ্যাত আসন্ন লাকসাম পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে তফসিল ঘোষণার আগেই সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা, সমর্থকদের প্রচার-প্রচারণা এবং ভোটের মাঠে নানা সমীকরণ নিয়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা।
বিশেষ করে মেয়র পদে পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আলহাজ¦ মুজির আহম্মদ ও উপজেলা বিএনপির সাংঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেল মুশু এবং জেলা জামায়াত মহানগরের কর্মপরিষদ সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী বদিউল আলম সুজনকে ঘিরে ত্রিমুখী লড়াইয়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারনা।
পৌরবাসীর একাধিক সুত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন ঘোষনা অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসের ১৫তারিখ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার কথা উঠলেও পৌর নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত হয়নি; তবে আসন্ন পৌর নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চলছে নানান হিসাব-নিকাশ। কে কোন রাজনৈতিক ও সামাজিক বলয় থেকে সমর্থন পাচ্ছেন, কার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কতটা, কার সঙ্গে কার সমঝোতা হতে পারে এবং দলীয় মনোনয়ন না পেলে স¦তন্ত্র প্রার্থী থাকতে পারে বলে নানান প্রশ্ন এখন পৌর এলাকার সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
লাকসাম পৌরসভার মেয়র পদকে ঘিরে সম্ভাব্য তিন প্রার্থী মজির, সুজন ও মুশুকে নিয়ে ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে ত্রিমুখী সমীকরণ। প্রত্যেকেরই রয়েছে নিজস্ব অনুসারী ও দলীয় প্রভাব ফলে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকছেন তিন জনই । পৌরবাসি কাকে বেছে নেবেন তা নিয়ে চলছে চুল ছেরা বিশ্লেষন তবে এখনই নিশ্চিত কোনো হিসাব করা কঠিন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন কমিশন কতৃক পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মাঠের চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। তখন প্রার্থীদের দলীয় অবস্থান, সাংগঠনিক শক্তি, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে পৌর বিএনপি সভাপতি মুজির আহম্মদ কে ঘিরে তার অনুসারীদের মধ্যে রয়েছে প্রত্যাশা ও আগ্রহ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তাঁর শক্তির জায়গা হিসেবে ব্যক্তিগত পরিচিতি ও নিজস্ব সমর্থকগোষ্ঠীকে সামনে আনা হচ্ছে।
তবে নির্বাচনী মাঠে শেষ পর্যন্ত তাঁর অবস্থান কতটা শক্ত হবে, তা নির্ভর করবে দলীয় সমর্থন, স্থানীয় সমীকরণ এবং ভোটারদের মনোভাবের ওপর। ত্রিমুখী লড়াইয়ের আরেক আলোচিত নাম উপজেলা বিএনপির সাংগঠিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন মুশু রাত-দিন পৌর এলাকায় ব্যাপক গন সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁরও রয়েছে নিজস্ব কর্মী বাহিনী ও দলীয় সমর্থক। নির্বাচনী মাঠে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে ভোটের হিসাব-নিকাশ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পৌরবাসি।
অন্যদিকে জেলা জামায়াতের মহানগরের কর্মপরিষদ সদস্য আইনজীবি বদিউল আলম সুজন আসন্ন পৌর নির্বাচন ঘিরে একক প্রার্থী হিসাবে রয়েছে ফুরফুরে মিজাজে কারন অপর দুুই প্রার্থী হলো বিএনপির। এ নিয়ে পৌর এলাকায় চলছে নানা আলোচনা। তবে তাঁর সমর্থকদের দাবি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, দলীয় অবস্থান এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা তাঁর নির্বাচনী শক্তির অন্যতম ভিত্তি হতে পারে বলে অভিমত সকলের।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাশা-পাশি লাকসাম পৌরসভার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে পৌর নির্বাচন ঘিরে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় শেষ পর্যন্ত মেয়র পদে লড়াই হবে কাদের মধ্যে? সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে পৌরশহরের অলিগলি ও চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবখানেই চলছে আলোচনা। স্থানীয়দের মতে, তফসিল ঘোষণার পরই প্রকৃত নির্বাচনী উত্তাপ শুরু হবে। তখন প্রচারণা, গণসংযোগ, দলীয় অবস্থান ও প্রার্থীদের নির্বাচনী কৌশল দৃশ্যমান হবে। আর সেই সঙ্গে বর্তমান ত্রিমুখী সমীকরণও বদলে যেতে পারে।
এদিকে পৌরশহরের বাসিন্দা ও প্রতিষ্ঠিত পরিবার এবং ঘুম পরিবারের সদস্য মো: রাফসানুল ইসলাম আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে লড়তে পারেন। তবে সব কিছু মিলিয়ে তফসিলের আগেই পৌর নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে লাকসাম পৌর এলাকা।


