নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা নগরী ও আশপাশের এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও অপরাধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। সর্বশেষ শনিবার দিবাগত রাতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এর তিন দিন আগে পরিচালিত অভিযানে ৮২ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৫২ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কুমিল্লাকে কিশোর গ্যাংমুক্ত করতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি এ কাজে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান নতুন কোনো কর্মসূচি নয়; এটি ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা ও কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
তিনি জানান, শনিবার রাতের অভিযানে আটক ৩৭ জনের মধ্যে নয়জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাঁচজনের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত মামলায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আটকদের মধ্যে ১৬ জন মাদকসেবী রয়েছে বলেও জানান ওসি। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া একজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
ওসি আরও জানান, কিছু কিশোর গ্যাংয়ের নাম থাকলেও বাস্তবে সেসব গ্রুপের সক্রিয় সদস্য সংখ্যা খুবই কম। তবে ছয়টি গ্রুপের নির্দিষ্ট কিছু সদস্যকে এলাকায় সক্রিয় পাওয়া গেছে। এর আগে বিভিন্ন মামলায় ১৭৩ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
রতন গ্রুপ প্রসঙ্গে ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে—ইমরান হোসেন রতনের পরিবর্তে বর্তমানে তার ভাতিজা বা ভাগনে আনিসুর রহমান আনিক ওই গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আনিক একটি হত্যা মামলার আসামি বলেও জানান তিনি। সর্বশেষ অভিযানে আনিকসহ ওই গ্রুপের আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওসি বলেন, সন্তানরা কখন কোথায় যাচ্ছে, বিশেষ করে রাতে অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা করছে কি না—সেদিকে অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে। পারিবারিক নজরদারি ও সঠিক শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া থেকে দূরে রাখা সম্ভব।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।


