নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে তিনি পদত্যাগ করেন।
এর আগে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরপরই মিরপুর এলাকার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। তবে তিনি হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একই ঘটনায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর পাশাপাশি সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।
রাড্ডা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মুখোশ পরা কয়েক শ ব্যক্তি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিপুল পরিমাণ ওষুধ, ভ্যাকসিন, স্বাস্থ্যসামগ্রী, নথিপত্র ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে আরও অনেককে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত চলছে।
এদিকে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও বিতর্কের কথা সামনে এসেছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকাকালে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত নয়।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনাকে ঘিরে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে চলমান আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান হলো।


