Homeজাতীয়ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় আরওপির তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ

ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় আরওপির তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস কর্মকর্তাদের সংগঠন রিটায়ার্ড বিসিএস অফিসার্স প্ল্যাটফর্ম (আরওপি)। একই সঙ্গে দেশের সম্মানহানির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অনতিবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সংগঠনটির সভাপতি ও সাবেক সচিব মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম এবং মহাসচিব ও সাবেক সিনিয়র সচিব খ. ম. কবিরুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র সফররত অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কতিপয় ব্যক্তির অসৌজন্যমূলক ও অপমানজনক আচরণের ঘটনায় আরওপির নেতারা গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। হুইলচেয়ারে থাকা একজন অশীতিপর জ্যেষ্ঠ নাগরিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণকে তাঁরা চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করেন।

আরওপির নেতারা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মতপার্থক্য কিংবা অভিযোগ থাকতেই পারে। তবে সেই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে শালীনতা, সৌজন্য ও ব্যক্তির মর্যাদা বজায় রাখা জরুরি। একজন প্রবীণ নাগরিকের পথ আটকে তাঁর প্রতি অসৌজন্যমূলক ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

বিবৃতিতে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে মিথ্যা, বানোয়াট ও কল্পিত বলে দাবি করেন সংগঠনটির নেতারা। তাঁদের মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে কোনো ব্যক্তিকে অপমানিত করা কিংবা তাঁর চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সভ্য আচরণের পরিপন্থী।

বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সে সময়ের সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশকে উত্তরণের পথে এগিয়ে নিতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলে মনে করে আরওপি।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগে অধ্যাপক ইউনূসের ভূমিকার জন্য জাতি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। দেশের ক্রান্তিকালে দায়িত্ব গ্রহণ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক কাঠামোয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টিও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আরওপির নেতারা।

তাঁরা বলেন, দেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের একজন সাবেক সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অপমানজনক আচরণের অভিযোগ দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে যথাযথ অনুসন্ধান ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে সংগঠনটি।

এ পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় আরওপি।

বিবৃতির শেষাংশে সংগঠনটির নেতারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও জাতীয় মর্যাদা সমুন্নত রাখতে দেশবাসীকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments