লাকসাম প্রতিনিধিঃ
লাকসাম তথা কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলের প্রবীণ ও পরিচিত সংবাদকর্মী দৈনিক দিনকালের জেলা দক্ষিন প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক মশিউর রহমান সেলিমের সাংবাদিকতা জীবনের ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামী সোমবার। ১৯৭৬ সালের ২৬অক্টোবর এই দিনে সাপ্তাহিক জাতীয় নিশান পত্রিকায় লেখালেখির মধ্য দিয়ে তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা। দীর্ঘ পাঁচ দশকের এই পথচলায় তিনি সংবাদ সংগ্রহ, প্রতিবেদন তৈরি এবং লেখনীর মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেছেন। স্থানীয় সাংবাদিকতা অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন সহকর্মীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। লাকসামসহ কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলের সাংবাদিকতা অঙ্গনে মশিউর রহমান সেলিম একটি পরিচিত নাম। ছাত্রজীবনে সাংবাদিকতা শুরু করে দীর্ঘ সময় ধরে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকা তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। সাংবাদিকতার মাধ্যমে এলাকার মানুষের কথা, স্থানীয় সমস্যা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গণমাধ্যমে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।
পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, মশিউর রহমান সেলিমের সাংবাদিকতা জীবনের শুরুটা ছিল ব্যতিক্রমী। ১৯৭৬ সালে তিনি লাকসাম শহরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লাকসাম উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। ওই বয়সেই সংবাদপত্রে লেখালেখির মাধ্যমে তিনি সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেন। বয়সে তরুণ হলেও সংবাদ ও লেখালেখির প্রতি আগ্রহ তাঁকে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত করে। ১৯৭৬ সালের এই দিনে সাপ্তাহিক জাতীয় নিশান পত্রিকায় লেখনীর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সেই যাত্রা পরবর্তী সময়ে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যম অঙ্গনে পরিচিতি অর্জন করেন। মশিউর রহমান সেলিমের সাংবাদিকতা পেশায় আসার পেছনে তাঁর বাবা ভাষাসৈনিক ও সাংবাদিক জিন্নতের রহমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাবার হাত ধরেই তাঁর সাংবাদিকতা জগতে প্রবেশ। পারিবারিক পরিবেশে সংবাদপত্র ও লেখালেখির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তাঁর আগ্রহকে আরও গভীর করে তোলে। বাবার কাছ থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণাকে সঙ্গী করে তিনি সাংবাদিকতা জীবনের পথচলা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে শুরু হওয়া সেই পথচলা ধীরে ধীরে দীর্ঘ কর্মজীবনে রূপ নেয়। পাঁচ দশকের এই যাত্রা তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা ও সাংবাদিকতার প্রতি দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার পরিচায়ক।
স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়, লাকসাম তথা কুমিল্লা দক্ষিণাঞ্চলের সংবাদকর্মীদের কাছে মশিউর রহমান সেলিম বিভিন্ন উপনামে পরিচিত। সহকর্মীদের মধ্যে ‘নিশাচর’ সহ এমন নানান নামে তাঁকে ডাকা হয়। বিশেষ করে ‘নিশাচর’ পরিচিতিটি তাঁর নামের সঙ্গে ব্যাপকভাবে যুক্ত। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সংবাদ সংগ্রহ, প্রতিবেদন তৈরি এবং স্থানীয় নানা ঘটনাপ্রবাহ গণমাধ্যমে তুলে ধরার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। স্থানীয় সাংবাদিকতা অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ তাঁকে পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি মশিউর রহমান সেলিম একজন প্রতিষ্ঠিত পুস্তক ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড গাজীমুড়া গ্রামে। পেশাগত জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি সাংবাদিকতা ও ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নিজের কর্মপরিচয় ধরে রেখেছেন। তাঁর জীবনযাত্রায় সাংবাদিকতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে, তেমনি পুস্তক ব্যবসাও তাঁর পরিচয়ের একটি অংশ। স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই ক্ষেত্রেই সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি তাঁর কর্মজীবনের বৈচিত্র্য তুলে ধরে।
অপর দিকে মশিউর রহমান সেলিমের সাংবাদিকতা জীবনের পাঁচ দশক পূর্তিকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলের সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী সহ একাধিক সামজিক সংঠন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সহকর্মীরা তাঁর দীর্ঘ পেশাগত পথচলাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও আগামী দিনের সাফল্য কামনা করেছেন। তাঁদের মতে, সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যেখানে দীর্ঘদিন কাজ করে টিকে থাকতে প্রয়োজন নিষ্ঠা, ধৈর্য, অভিজ্ঞতা এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতি দায়বদ্ধতা। ছাত্রজীবনে সংবাদপত্রে লেখালেখির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মশিউর রহমান সেলিমের দীর্ঘ পথচলা স্থানীয় সাংবাদিকতা অঙ্গনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
পাঁচ দশকের এই সাংবাদিকতা জীবন শুধু ব্যক্তিগত কর্মজীবনের দীর্ঘতার পরিচয় নয়; এটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তন, বিকাশ এবং বিভিন্ন সময়ের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। তাঁর অভিজ্ঞতা ও পেশাগত পথচলা নতুন প্রজন্মের সংবাদকর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে। সাংবাদিকতা জীবনের ৫০ বছর পূর্তিতে মশিউর রহমান সেলিমের প্রতি সহকর্মীদের প্রত্যাশায় তিনি সুস্থ থাকুন, দীর্ঘজীবী হোন এবং তাঁর অভিজ্ঞতা ও পেশাগত জ্ঞান দিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকতা অঙ্গনে অবদান রেখে যান। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সহকর্মীরা ভবিষ্যতেও তাঁর সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করেছেন।


