লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসামে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী বেসরকারি ট্রেন কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার আজগরা এলাকার নাওটী স্টেশন অতিক্রমকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা অভিমুখী আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই রুটে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন ট্রেনের বহু যাত্রী।
দুর্ঘটনায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আকস্মিকভাবে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে অনেকে হুড়োহুড়ি করে ট্রেন থেকে নামার চেষ্টা করেন। এতে কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হঠাৎ এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনটি নাওটী স্টেশন অতিক্রম করার সময় এর তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ঢাকা অভিমুখী আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিপরীতমুখী ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। দুর্ঘটনার কারণে ট্রেনের যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব হয় এবং নির্ধারিত সময়ে যাত্রা শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। লাকসাম রেলওয়ে জংশন থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলের উদ্দেশে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন রেলওয়ে পুলিশের সদস্যরা। তাঁরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে অংশ নেন।
এদিকে ঢাকা অভিমুখী আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ওই পথে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর যাত্রাসূচিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের মধ্যে অনেকে বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তবে লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারের কাজ শেষ হওয়া এবং আপ লাইনে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরুর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব চন্দ্র কর দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনটি নাওটী স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে এর তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ঢাকা অভিমুখী লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
তবে কী কারণে ট্রেনটির বগিগুলো লাইনচ্যুত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


