মিজানুর রহমান, নাটোর প্রতিনিধি:
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য, কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিচারসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নাটোরের বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত বিষয়ে সামাজিক নিরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টায় বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এ সামাজিক নিরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তা এবং ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘এক্সপান্ডিং সিভিক স্পেস থ্রু অ্যাক্টিভ সিএসও পার্টিসিপেশন অ্যান্ড স্ট্রেনদেনড গভর্ন্যান্স সিস্টেম ইন বাংলাদেশ’ (ইসিসেপ) প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোছা. ফাহিমা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর রুরাল পিপলস অ্যাডভান্সমেন্ট (অর্পা)-এর সভাপতি মোছা: জোসনা বেগম, নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট মো. ওয়াহেদুজ্জামান এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান। এ সময় ইউনিয়নের কমিউনিটি সদস্য, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সামাজিক নিরীক্ষা কার্যক্রমে বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে পরিচালিত গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, সেবার মান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, জনগণের অংশগ্রহণ, তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ এবং বিচারসেবা গ্রহণে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি গ্রাম আদালতের সেবা আরও কার্যকর, জনবান্ধব ও সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করার বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ দ্রুত, সহজ ও তুলনামূলকভাবে কম খরচে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে এ ব্যবস্থার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সেবাপ্রাপ্তিতে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় তথ্য সহজলভ্য করা এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সামাজিক নিরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মতামত, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে গ্রাম আদালতের সেবার মানোন্নয়ন, নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বিচারসেবা আরও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট করণীয় ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়।
বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং সামাজিক জবাবদিহিতার চর্চা বৃদ্ধি করা গেলে সরকারি সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি জনগণের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে। এ ধরনের সামাজিক নিরীক্ষা নাগরিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উল্লেখ্য, ইসিসেপ প্রকল্প স্থানীয় পর্যায়ে সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নাগরিকদের কণ্ঠস্বর শক্তিশালী করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন, নাগরিক অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতামূলক সেবাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে।
#
Md Mizanur Rahman


