Homeজাতীয়বিগত সরকারের ভ্রান্তনীতির কারনে কুমিল্লায় ৩৬টি ট্রেন বন্ধ ভোগান্তিতে যাত্রীরা

বিগত সরকারের ভ্রান্তনীতির কারনে কুমিল্লায় ৩৬টি ট্রেন বন্ধ ভোগান্তিতে যাত্রীরা

মশিউর রহমান সেলিম, কুমিল্লা:
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে কুমিল্লা-লাকসাম, লাকসাম-চট্রগ্রাম, লাকসাম-নোয়াখালি ও লাকসাম অঞ্চলের স্বল্পআয়ের মানুষের কাছে একসময় অন্যতম জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী মাধ্যম ছিল ট্রেন। তবে বিগত সরকারের ভ্রান্তনীতি-লুটপাট, যথাযথ তদারকি ও তাত্ত্বিক সক্ষমতার অভাবে এই অঞ্চলে প্রায় ৩৬টি নানান ধরনের ট্রেন এবং একাধিক ষ্টেশান বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।

জানা যায়, বিগত সরকার চীন থেকে আমদানি করা ২০টি ডেমু ট্রেনের মধ্যে কুমিল্লা অঞ্চলে ৪ সেট চালু ছিল। বর্তমানে সবগুলোই অচল হয়ে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে মরিচা ধরছে এবং যন্ত্রাংশ খসে পড়ছে। ২০১২ সালে সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকা বরাদ্ধে ৩০ বছর মেয়াদে এই ট্রেনগুলো আনা হয়। কিন্তু যথাযথ কারিগরি দক্ষতা ও তদারকির অভাবে ২০২০ সালে মাত্র ৮ বছরের মাথায় ট্রেনগুলো পুরোপুরি বিকল হয়ে পড়ে। ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে জংশন লাকসামের লোকশেডে পড়ে থাকা প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের একটি ডেমু ট্রেন বর্তমানে প্রায় কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের একাধিক সুত্র জানায়, কুমিল্লা-নোয়াখালী, কুমিল্লা-চাঁদপুর, কুমিল্লা-ঢাকা এবং কুমিল্লা-চট্টগ্রাম রুটে বিগত সরকারের শাসনামলে একসময় মোট ৫৪ জোড়া লোকাল ও আন্তঃনগর ট্রেন চলত। হঠাৎ করে বিগত সরকারের ভ্রান্তনীতি ও লুটপাটের কারনে ১৮ জোড়া ট্রেন বন্ধ হয়ে পড়ে। বর্তমানে ৪টি ট্রেন রুটে চলছে মাত্র ৭২টি ট্রেন। লোকাল ও ডেমু ট্রেন বন্ধ থাকায় আসনভিত্তিক টিকিটের চাহিদা তিনগুণ বেড়েছে ফলে বিভিন্ন ট্রেন ষ্টেশান গুলোতে টিকেট কালোবাজারি সহ নানান অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে ফলে বাধ্য হয়ে সাধারণ যাত্রীরা বেশি ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করছেন। চাঁদপুর ও নোয়াখালী রুটে ডেমু বন্ধ হওয়ার পর স্বল্প দূরত্বের যাত্রী চলাচলে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বর্তমান ৩৬ জোড়া ট্রেন দিয়ে মোট চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মেটানো সম্ভব হচ্ছে।

সুত্রটি আরো জানায়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এই ৪টি রুটে গত অর্থবছরে বিক্রি হয়েছে ২০কোটি টাকার টিকিট। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই টিকিট বিক্রি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকার, যা প্রমাণ করে এই রুটে ট্রেনের চাহিদা ও আয় যথেষ্ট ভালো। কুমিল্লা স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন এ প্রতিনিধিকে বলেন, স্বল্প খরচে যাতায়াত করা যাত্রীরা লোকাল ও ডেমু বন্ধ হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিটের চাহিদা এখন তিনগুণ। লাকসাম জংশন স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, ডেমুগুলো থেকে আগে ভালো আয় হতো। বর্তমান সরকারের রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি বন্দ হওয়া ট্রেন গুলো পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা করে তবে এ অঞ্চলের ট্রেন যাত্রীদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। প্রকৌশল ও লোকশেড শাখা সাইফুর রহমান ও আনিছুর রহমান বলেন, ডেমুগুলো পুনরায় মেরামতের উদ্যোগ নিলে অথবা নতুন ট্রেন বরাদ্দ দিলে এই অঞ্চলের যাত্রী সংকট দূর হবে, মানুষ আবার স্বল্প ব্যয়ে যাতায়াতের সুযোগের পাশাপাশি সরকার বিপুল রাজস্ব আয় করা সম্ভব।

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments