আব্দুর রহমান সাঈফ, কুমিল্লাঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নিবন্ধন সহকারী মো. ইসমাইল হোসেনকে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় বরখাস্ত করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাঁর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, মুরাদনগর সদর ইউনিয়নে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) গত ১২ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে মো. ইসমাইল হোসেনের সংশ্লিষ্টতা সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তদন্তে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর কর্মকাণ্ডকে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে বিধি অনুযায়ী বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অফিস আদেশে বরখাস্তের বিষয়টি তাঁর চাকরিবহিতে লিপিবদ্ধ করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এর আগে ২০২৪ সালের জুনে মুরাদনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব থাকাকালে রোহিঙ্গা এক যুবককে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে জন্মনিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগে মো. ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছিল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় তিনি প্রায় সাত মাস কারাগারে ছিলেন। তবে এ বিষয়ে বর্তমান প্রতিবেদনে আদালতের নথি বা কারাগারে থাকার সুনির্দিষ্ট মেয়াদ স্বাধীনভাবে যাচাই করা না থাকায় এটিকে অতিরিক্ত দাবির পরিবর্তে পূর্বের সংবাদসূত্রের তথ্য হিসেবে দেখা উচিত।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও ছিল। এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


