লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসামে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে কলেজগুলোর তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মাদ্রাসাগুলো। উপজেলার ৯টি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৪ দশমিক ০২ শতাংশ। অন্যদিকে, ৮টি মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষায় পাসের হার ৭৫ দশমিক ০৮ শতাংশ। দুই পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এইচএসসির তুলনায় আলিমে পাসের হার ২১ দশমিক ০৬ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় দুই শিক্ষাধারার ফলাফল প্রায় সমান।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, লাকসামের ৯টি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ৫৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৩২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন। কলেজগুলোর মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে মুদাফরগঞ্জ আলী নওয়াব উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৭০ দশমিক ৪১ শতাংশ। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ ১৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ থেকে।
এদিকে, আলিম পরীক্ষায় উপজেলার ৮টি মাদ্রাসা থেকে ৩০৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৩২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ জন। পাসের হার ৭৫ দশমিক ০৮ শতাংশ। মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দশমিক ৪৮ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে ফুলগাঁও ফাজিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৯ জন। তবে সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে দৌলতগঞ্জ গাজীমুড়া কামিল মাদ্রাসা থেকে।
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মুদাফরগঞ্জ আলী নওয়াব উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে ৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ৪১ শতাংশ। গণউদ্যোগ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে ৮৫ জনের মধ্যে ৫৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। মো. আবুল কালাম কলেজে ৩৯ জনের মধ্যে ২৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।
নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজে ৮৭৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫৩৭ জন। পাসের হার ৬১ দশমিক ১৬ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ জন। রহমানিয়া চিরসবুজ উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে ৬৫ জনের মধ্যে ৩২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৪৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। নুরুল আমিন মজুমদার ডিগ্রি কলেজে ২০৭ জনের মধ্যে ৭৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
এ ছাড়া লাকসাম মডেল কলেজে ৯৮ জনের মধ্যে ২২ জন পাস করেছে, পাসের হার ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আতাকরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ২৫ জনের মধ্যে ৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ২০ শতাংশ। আজগরা হাজী আলতাফ আলী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে ৪৫ জনের মধ্যে ৭ জন পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, আলিম পরীক্ষায় ফলাফলের দিক থেকে মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে ফুলগাঁও ফাজিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটিতে ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। মুদাফরগঞ্জ এহইয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৫০ জনের মধ্যে ৪৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৬ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।
দৌলতগঞ্জ গাজীমুড়া কামিল মাদ্রাসায় ১২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০১ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮০ দশমিক ১৫ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে সর্বোচ্চ ১০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বড়বাম ফাজিল মাদ্রাসায় ২৫ জনের মধ্যে ১৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৬ শতাংশ। কালিয়াপুর আলিম মাদ্রাসায় ১১ জনের মধ্যে ৮ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭২ দশমিক ৭২ শতাংশ।
বিজরা নাজিরিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৩৯ জনের মধ্যে ২৪ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। ছিলইন ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় ১২ জনের মধ্যে ৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অপরদিকে, আউশপাড়া ফাজিল মাদ্রাসায় ২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৪৪ শতাংশ।
সামগ্রিক ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, লাকসামে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১ হাজার ৮৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৬৪ জন। দুই পরীক্ষায় সর্বমোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯ জন। এর মধ্যে কলেজগুলোতে ১৫ জন এবং মাদ্রাসাগুলোতে ১৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
ফলাফলে আলিম পরীক্ষায় পাসের হার তুলনামূলক বেশি হলেও এইচএসসি ও আলিম উভয় পরীক্ষাতেই জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কাছাকাছি। ফলে সামগ্রিক পাসের হারে মাদ্রাসাগুলো এগিয়ে থাকলেও মেধাভিত্তিক সর্বোচ্চ ফলাফলের ক্ষেত্রে দুই শিক্ষাধারার ব্যবধান খুব বেশি নয়।


