Homeজাতীয়এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারে আরও ২২৩ টাকা দাম বৃদ্ধি, নতুন দাম ২...

এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারে আরও ২২৩ টাকা দাম বৃদ্ধি, নতুন দাম ২ হাজার ৬০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ সংকটের মধ্যেই আবারও বাড়ানো হয়েছে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। এবার ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সোমবার (২ নভেম্বর) নতুন এ মূল্য ঘোষণা করা হয়, যা একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

এর আগে গত মাসে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলে টানা দুই মাসে এই সিলিন্ডারের দাম বাড়ল মোট ৪৩৫ টাকা। তবে নির্ধারিত দামের বাইরেও গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ নতুন দাম নির্ধারণের পরও বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রির আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা।

এলপিজি খাতে দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ সংকট চলায় সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের রান্নার খরচে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

এলপিজি খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, দেশে প্রায় এক কোটি গ্রাহক জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করেন। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ এলপিজি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির রান্নার কাজে। বাকি অংশ শিল্পকারখানা ও পরিবহন খাতে ব্যবহৃত হয়। দেশের এলপিজি বাজারের প্রায় ৯৯ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে এলপিজি আমদানি করে বাজারে সরবরাহ করে।

খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, গত দুই মাসে এলপিজি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। অথচ বাজারে সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে আমদানি ও সরবরাহের মধ্যে এই ব্যবধান কেন তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরবরাহ সংকটের প্রকৃত কারণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।

বিইআরসির নতুন মূল্য অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে। অন্যদিকে, যানবাহনে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটারের দাম ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে এলপিজির দাম সমন্বয় করে আসছে বিইআরসি। তবে কমিশনের নির্ধারিত দামে বাজারে সিলিন্ডার বিক্রি না হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে কোনো কোনো বিক্রেতা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করেন। অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি দাম দিয়েও সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন গ্রাহকেরা।

বারবার দাম সমন্বয়ের পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ ও বিক্রয়ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি না থাকলে সাধারণ ভোক্তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই শুধু দাম নির্ধারণ নয়, নির্ধারিত মূল্যে এলপিজির পর্যাপ্ত সরবরাহ ও বিক্রি নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি জোরদার করার দাবি উঠেছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments