Homeসারাদেশজেলার খবরকিস্তি বকেয়ার অভিযোগে নাঙ্গলকোটে নারী গ্রাহক গ্রেপ্তার, এনজিওর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার...

কিস্তি বকেয়ার অভিযোগে নাঙ্গলকোটে নারী গ্রাহক গ্রেপ্তার, এনজিওর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগ

নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি:
কিস্তির টাকা বকেয়া থাকার অভিযোগে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে সাজেদা ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) এক নারী গ্রাহককে পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১ নভেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের চারিজানিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে ওই নারীকে এনজিওর লোকজন জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পুলিশের হাতে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বামী। অন্যদিকে, এনজিও কর্তৃপক্ষের দাবি, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তার হওয়া নারী হলেন চারিজানিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সাগরের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (২৪)। তিনি সাজেদা ফাউন্ডেশনের বাঙ্গড্ডা শাখার গ্রাহক ছিলেন। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বাঙ্গড্ডা শাখার ব্যবস্থাপক ইমরুল কায়েসের নাম উঠে এসেছে। পরে সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে নাঙ্গলকোট থানা-পুলিশ তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কারাগারে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, ফাতেমা বেগম সাজেদা ফাউন্ডেশনের বাঙ্গড্ডা শাখা থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পরিবারের দাবি, ঋণের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করার পরও এনজিও কর্তৃপক্ষ তাঁর কাছে আরও ৩৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে আসছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, রবিবার রাতে এনজিওর কয়েকজন কর্মী চারিজানিয়া গ্রামের ওই বাড়িতে গিয়ে ফাতেমার কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর তাঁরা আবারও ওই বাড়িতে গিয়ে ফাতেমাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন বলে অভিযোগ করেন তাঁর স্বামী মো. সাগর।

এ বিষয়ে সাজেদা ফাউন্ডেশনের বাঙ্গড্ডা শাখার ব্যবস্থাপক ইমরুল কায়েস বলেন, ফাতেমা বেগমের কাছে প্রতিষ্ঠানের ৫০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে তাঁকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ওই নারীর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। পরোয়ানা তামিল করতে একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঋণের টাকা পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ দাবি এবং গ্রাহককে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঋণের প্রকৃত বকেয়া, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ এবং গ্রাহককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার আগে কী ঘটেছিল, তা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও উভয় পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments