Homeজাতীয়মারধরে গর্ভপাত, মামলা না নেওয়ায় চিলমারীতে মানববন্ধন

মারধরে গর্ভপাত, মামলা না নেওয়ায় চিলমারীতে মানববন্ধন

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
অন্তঃসত্ত¡া নারীকে মারধর করে গর্ভপাত ঘটানো, বসতঘরে আগুন দেওয়া, টাকা লুট এবং তাঁর স্বামীকে জিম্মি করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় তিন দফা লিখিত এজাহার দেওয়ার পরও মামলা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। মানববন্ধন থেকে দ্রæত মামলা গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় স্থানীয় এলাকাবাসীর ব্যানারে উপজেলার রমনা ইউনিয়নের নছর উদ্দীনের মোড় এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৬ আগস্ট মধ্যরাতে মুদাফৎথানা বেলেরভিটার হরিণের বন্দ এলাকায় আনু বেগমের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁর স্বামীকে জিম্মি করেন এবং চার মাসের অন্তঃসত্ত¡া আনু বেগমকে মারধর করেন। এতে তাঁর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে গুরুতর অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা জানান বলে দাবি করেন বক্তারা।

তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা আনু বেগমকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করেন এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যান। একই সময় তাঁর স্বামীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে হামলাকারীরা বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন অন্তঃসত্ত¡া নারী ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মতো গুরুতর অভিযোগের পরও মামলা গ্রহণ না করার বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁরা দ্রæত লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ভুক্তভোগী আনু বেগম বলেন,‘সাইদুর রহমান, শামীম মিয়া ও হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে হামলাকারীরা চলে যাওয়ার আগে বসতঘরের চারপাশে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আগুন নেভান। ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেও পুলিশি সহায়তা পাইনি। পরে চিলমারী থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৯ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে তিন দফায় লিখিত এজাহার দিলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

ভুক্তভোগী বিপ্লব মিয়া বলেন, ‘এর আগেও একবার আমার বাড়ীতে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। উল্টো চিলমারী থানার ওসি থানায় ডেকে নিয়ে বিষয়টি বিচার করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু থানায় যাওয়ার পর উল্টো আমাদের বাড়ি খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. দুলাল মিয়া, মো. মাছুদ্দীন ও মো. নয়নজি।

তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিলমারী থানার ওসি নয়ন কুমার। তিনি বলেন,‘ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা এজাহার দেওয়া হয়নি। তাই পুলিশ মামলা নেয়নি বা মামলা নিতে গড়িমসি করেছে, এমন অভিযোগ সঠিক নয়। বাড়ি খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও সত্য নয়। তাঁরা অভিযোগ নিয়ে থানায় এলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, পিপিএম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। জেনে আপনাকে জানাব।’

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments