Homeআন্তর্জাতিকইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে ‘বড় কিছু’ করতে চান ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে ‘বড় কিছু’ করতে চান ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হতে পারে ইরানকে মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের আরও শক্তভাবে ঐক্যবদ্ধ করা, আঞ্চলিক সংঘাত কমানো এবং ইসরাইলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক আরও গভীর করা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এর সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে অন্তত দুটি বৈঠক করেছেন। বৈঠকগুলোতে যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব ও ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা এবং বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুই ব্যক্তি অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠজনদের বলেছেন—ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ‘আরও বড় কিছু’ করতে চান।

সম্ভাব্য পরিকল্পনার প্রথম দিকটি হচ্ছে ইরানের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের আরও শক্তভাবে একত্র করা। এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন আঞ্চলিক নিরাপত্তার গ্যারান্টার হিসেবে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।

যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে একটি অভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে আনার বিষয়টিও পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব মিত্র শেষ পর্যন্ত এই কাঠামোয় সম্মত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

পরিকল্পনার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া সংঘাত ও উত্তেজনা কমানো।

এর আওতায় ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের পাশাপাশি ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তি এবং ইসরাইল-লেবাননের মধ্যকার বিদ্যমান চুক্তি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য উদ্যোগের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক লক্ষ্যগুলোর একটি হতে পারে ইসরাইল ও আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নেওয়া।

এর অংশ হিসেবে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ সম্প্রসারণ এবং ইসরাইল ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হতে পারে।

রিয়াদ ও তেল আবিবের মধ্যে এমন একটি চুক্তি হলে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে এটি সামনে আসতে পারে।

এদিকে ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এর পর নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে মধ্যবর্তী নির্বাচন।

ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, ইসরাইলের নির্বাচনের পর যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তারা ওয়াশিংটনের নতুন মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনায় সহযোগিতা করবে। তবে ইসরাইলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে চায় না ট্রাম্প প্রশাসন।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের পরও যদি ইসরাইলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়, সেক্ষেত্রেও ট্রাম্প তার পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি নিয়ে কাজ চলছে এবং এটি চূড়ান্ত হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তার মতে, যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে কীভাবে একটি অভিন্ন কাঠামোর মধ্যে আনা যায়, সেটিই পরিকল্পনার অন্যতম মূল বিষয়।

তবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সব মিত্র এই উদ্যোগে সম্মত হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments