সাভার প্রতিনিধি:
সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় অটোরিকশা পার্কিংকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কির জেরে স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) কর্মরত পুলিশের এক উপ-পরিদর্শককে (এসআই) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলেও গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত এসআইয়ের নাম মো. আলতাফ হোসেন। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) স্পেশাল ব্রাঞ্চে কর্মরত ছিলেন। হামলায় গুরুতর আহত তার ছেলে মো. আরিফ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ১০টার পর আলতাফ হোসেনের মালিকানাধীন একটি ছোট পোশাক কারখানার সামনে মালামাল বহনকারী একটি অটোরিকশা পার্কিং করা নিয়ে চালকের সঙ্গে তার তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে ওই অটোরিকশাচালক আরও ১৫ থেকে ২০ জন লোক নিয়ে এসে কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ।
এ সময় আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফ বাধা দিলে হামলাকারীরা তাদের লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই এসআই আলতাফ হোসেনের মৃত্যু হয়। তার ছেলে আরিফ এখনো চিকিৎসাধীন।
নিহত আলতাফ হোসেনের বাবার নাম জুবায়ের আলী শেখ। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানার এলাকায়। তিনি আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামের মদিনাসিটি এলাকায় স্ত্রী শিউলি পারভিন ও ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। একই এলাকায় নিজের পাঁচ শতক জায়গায় টিনশেড স্থাপনায় স্বল্প পরিসরে ট্রাউজার ও গেঞ্জি তৈরির একটি কারখানা পরিচালনা করতেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, আলতাফ হোসেনের বিপি নম্বর ৬৮৮৬০৫০৬০০ এবং এসবি আইডি নম্বর ৬২৬৮।
সাভার মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম জহুরুল ইসলাম (৩০)। তিনি বড়দেশী গ্রামের মোসলেম উদ্দিন ও রুপবানুর ছেলে।
পুলিশ জানায়, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আমিনবাজার টেনারি পুলিশ ফাঁড়ি ও সাভার মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে জহুরুল ইসলামকে আটক করা হয়। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা রুজু হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিহতের কারখানার সামনে গাড়ি পার্কিং করাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। গাড়ি চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও তুচ্ছ ওই তর্কাতর্কি শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ ঘটনায় রূপ নেয়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


