Homeজাতীয়কুমিল্লায় সরকারি সড়কে বনায়নকৃত  গাছগুলো দেখার কেউ নেই 

কুমিল্লায় সরকারি সড়কে বনায়নকৃত  গাছগুলো দেখার কেউ নেই 

মশিউর রহমান সেলিম, কুমিল্লা:
কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চল বৃহত্তর লাকসামের লালমাই, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা ও ২টি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে বনায়নকৃত সরকারী গাছগুলো যেন নিজেরাই নানাহ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। উক্ত সড়কগুলোর সরকারী ভাবে বিপুল অর্থ বরাদ্বে বনায়নকৃত গাছ গুলো রক্ষনা বেক্ষন ও দেখার মতো কেউ নেই।
বিশেষ করে  লাকসাম-মুদাফরগঞ্জ, লাকসাম-নাঙ্গলকোট, লাকসাম-লালমাই, লাকসাম-বিপুলাসার ও লাকসাম-মনোহরগঞ্জ সড়ক এবং লাকসাম-নাঙ্গলকোট ২টি পৌর সড়ক সহ সংযোগ সড়কগুলোর দু’পাশে শতশত বিভিন্ন ধরনের গাছ মূমূর্ষ অবস্থায় কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট কারো যেন মাথা ব্যাথা নেই। এগুলোর কোনটিতে ঘুণে ধরেছে, আর কোনটিতে বাসা বেধেছে কাঠ পোকায়। গাছগুলো ভেঙ্গে পড়ে যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতিসহ পথচারীদের প্রাণহানির আশংকা করছেন স্থানীয় লোকজন। ওই মরা গাছগুলো ভেঙ্গে পড়ে যে কোন মুহূর্তে বড়ধরনের দৃর্ঘটনার শংকা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ অদ্যবদি কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকার জনমনে নানাহ কানাঘুষা হচ্ছে।  এছাড়া উক্ত সড়কের গাছ গুলো যে যার মতো করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে।  এলাকার জনসাধারণ এবং সড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত যাতায়াতকারী শতশত যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা ওই এলাকা পারাপার করতে হচ্ছেন ঝুঁকি নিয়ে।
স্থানীয় লোকজন জানায়, দক্ষিন জেলার বন বিভাগ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায়, দায়িত্বহীনতা, দূর্বলতা, আইনগত জটিলতা ও ভ্রান্ত নীতির কারনে ওদের কর্মকান্ড নিয়ে রয়েছে অনেক বির্তক। এছাড়া বনায়ন কর্মসূচীর রক্ষনাবেক্ষন কমিটির লোকজনের আন্তরিকতা, দূর্নীতি ও সরকারী অর্থ অপচয়সহ নানাহ জটিলতা থাকায় সরকারি এ গাছগুলো না পারছেন কাটতে, না পারছেন রাখতে। এহেন দোটানা পরিস্থিতিতে ওইসব এলাকার লোকজন বার বার বন বিভাগ কর্মকর্তাদের কাছে ধর্না দিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বরং তারা বলছেন ভিন্ন কথা। বিগত ১৫বছর সৈরাচার সরকারের শাসন আমলে এ অঞ্চলের বনবিভাগ যেন লুটপাটের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে জোনাল মোয়াজ্জেম হোসেন শিপন দায়িত্বে আসার পর থেকে এ বন বিভাগের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। তার দায়িত্ব ও কর্মকান্ড নিয়ে রয়েছে হাজারো অভিযোগ। অতীতে এ অঞ্চলের সড়কগুলোর গাছ বিক্রির টেন্ডার ঘিরে হয়েছে নয় ছয়।
সরেজমিনে জেলা দক্ষিনের ২টি পৌরএলাকাসহ উপজেলা গুলোর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাকা সড়কের দু’পাশে বনায়নকৃত ছোট-বড় গাছ নানাহ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এতে শত শত গাছ গাছ মরে শুকিয়ে পাতাবিহীন কঙ্কালের মত দাঁড়িয়ে আছে। গাছগুলোর বেশিরভাগই  শিশু গাছ। এছাড়াও ইউক্লিপটাস্, আকাশী গাছও রয়েছে। মরাগাছগুলোর বেশিরভাগের গোড়ায় পোকায় ধরায় সরু হয়ে সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই ভেঙ্গে পড়তে পারে। এ নিয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট ধর্না দিলেও কোন ফল হচ্ছে না। পাকা সড়কের পাশে থাকা প্রায় ৩ শতাধিক মরাগাছ পাতাবিহীন ও ছাল উঠে গিয়ে শুকিয়ে কংঙ্কালের মত ভীতিকর অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রতিনিয়ত আতংকের মধ্যে গাছগুলোর নীচ দিয়ে সড়কের যাতায়াতকালে ওইসব মরা গাছগুলো বুঝি মাথায় ভেঙ্গে পড়লো! সংশ্লিষ্টদের ধারণা- জলবায়ু পরিবর্তন, অনুকুল পরিবেশের অভাব, কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা ও তদারকির পাশাপাশি অজানা কোন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কয়েক লাখ টাকার গাছগুলোর আজ করুন পরিনতির দিকে মোড় নিচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলা গুলোর সড়কের দুপাশে থাকা গাছ গুলো যে যার মতো করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউপির চাঁনগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই জানান, প্রায় ৪ বছর আগে একটি গাছ ভেঙ্গে তার ১২ শতাংশ জমির উপর পড়ে ফসল নষ্ট হয়। তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় না পারি সইতে, না পারি কাটতে, না পারি সরাতে’। অশ্বতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রী নূর জাহান বলেন, ‘লাকসাম-মুদাফফরগঞ্জ সড়ক দিয়ে আসতে ভয় লাগে। মনে হয় ভূত-পেতনি গাছের মধ্যে বসে আসে। যে কোনো সময় গাছসহ ভেঙ্গে পড়বে।’
এ ব্যাপারে নাম জানাতে অনিচ্ছুক জেলা বনবিভাগের জনৈক কর্মকর্তা বলেন, শিঘ্রই ওই মরাগাছগুলো কেটে সরিয়ে নিতে আমি জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে এ বিষয়ে অবহিত করেছি। বিশেষ করে সড়ক গুলোর মাটির তারতম্য, ভারসাম্য ও বয়স বেশি হওয়ায় শিশু গাছগুলো মরে গেছে। অন্যান্য গাছের ক্ষেত্রে মৃতের হার সহনীয় রয়েছে। তিনি বলেন, জেলা পরিষদের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা দক্ষিনের সড়কগুলোর টেন্ডার আহবান করে গাছগুলো বিক্রি করে কর্তন করা হবে এবং নতুনভাবে আরো দ্বিগুন নানাহ ধরনের গাছ লাগানো হবে। বর্তমান বিএনপি সরকার বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের সকল সড়ক ও প্রতিষ্ঠানে কয়েক লাখ বিভিন্ন ফলজ এবং বনজ গাছের চারা রোপনের মাধ্যমে
সবুজ বিপ্লব গড়ে উঠবে বলে আশা রাখি।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments