নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘ ২২ বছরের পথচলার পর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) নামে আর থাকছে না বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি। র্যাবের কাঠামো বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুন পরিচয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নামে দায়িত্ব পালন করছে ইউনিটটি।
বাহিনীপ্রধান আহসান হাবীব পলাশ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে গেজেট প্রকাশের পর বুধবার থেকেই র্যাবের পরিবর্তে এসআরবি নামে সব কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
নতুন পরিচয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাহিনীর অফিসিয়াল যোগাযোগেও পরিবর্তন এসেছে। সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র, বিভিন্ন ইউনিটের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য যোগাযোগপত্রে র্যাবের পরিবর্তে ‘এসআরবি বাংলাদেশ’ লেখা লোগো ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে লোগোর নকশায় বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
র্যাব বিলুপ্ত করে নতুন ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ পাস হয়। পরে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে নতুন কাঠামোটি আইনি ভিত্তি পায়। তার পরদিনই মাঠপর্যায়ে নতুন নামে কার্যক্রম শুরু হলো।
নতুন ব্যবস্থায় এসআরবি পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। অপরাধ দমন, বিশেষ অভিযান এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়াসহ নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবে ইউনিটটি।
আইনে ইউনিটটির জনবল, সম্পদ, তহবিল, নথিপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় নতুন কাঠামোর আওতায় আনার বিধান রাখা হয়েছে। ফলে র্যাবের বিদ্যমান অবকাঠামো ও সক্ষমতার একটি বড় অংশ নতুন ইউনিটের কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।
২০০৪ সালের ২৬ মার্চ যাত্রা শুরু করেছিল র্যাব। সন্ত্রাস, মাদক, অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বিভিন্ন সময় বাহিনীটির অভিযান দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে র্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে আসে।
বিশেষ করে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব এবং বাহিনীর তৎকালীন ও সাবেক সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
পরবর্তী সময়ে র্যাবের কাঠামো সংস্কার বা বিলুপ্তির দাবি আরও জোরালো হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বিএনপির পুলিশ প্রশাসন সংস্কারবিষয়ক কমিটিও র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে।
এর ধারাবাহিকতায় সরকার র্যাবের কাঠামো ও কর্মপরিধি পুনর্বিন্যাস করে পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেয়।
র্যাব থেকে এসআরবিতে রূপান্তরের ফলে বাহিনীর নাম ও সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে। তবে বিদ্যমান জনবল, অবকাঠামো ও সম্পদের বড় অংশ নতুন ইউনিটের কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ায় এটি কতটা কাঠামোগত পরিবর্তন আনবে—তা নির্ভর করবে নতুন আইনের বাস্তব প্রয়োগ, দায়িত্ব বণ্টন, পরিচালন কাঠামো এবং জবাবদিহির ব্যবস্থার ওপর।
নতুন আইনে সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি আইনের শাসন, মানবাধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা নতুন ইউনিটের কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার বিষয় হয়ে থাকবে।
র্যাবের দীর্ঘ অধ্যায়ের পর এখন পুলিশের অধীনে এসআরবির যাত্রা শুরু হলো। নামের এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর প্রশাসনিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনে রূপ নেয়, সেটিই আগামী দিনের আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।


