Homeনির্বাচিত সংবাদঝটিকা মিছিলের নেপথ্যে অর্থায়নের অভিযোগ, তদন্তে প্রভাবশালী নেতাদের নাম

ঝটিকা মিছিলের নেপথ্যে অর্থায়নের অভিযোগ, তদন্তে প্রভাবশালী নেতাদের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সাম্প্রতিক ঝটিকা মিছিলের নেপথ্যে অর্থায়ন ও পরিকল্পনার অভিযোগের তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নাম তদন্তে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, মিছিলে অংশ নেওয়া কর্মীদের কাউকে কাউকে নগদ অর্থ ও যাতায়াত খরচ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থের উৎস শনাক্ত করতে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের তথ্যও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর নাসির উদ্দিনের নাম এসেছে বলে সূত্রের দাবি। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে একটি ঝটিকা মিছিলের সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার দিন ও পরদিন অভিযান চালিয়ে ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর ডিএমপির বিশেষ অভিযানে আরও ৪০ জন গ্রেফতার হন।

ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে ডিএমপির পক্ষ থেকে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিএমপির সদর দপ্তরের ডিসি শাহরিয়ার আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রশাসনিক কারণে কমিটির সদস্যদের নাম ও তদন্তের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঝটিকা মিছিলের জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সংগঠিত করার ক্ষেত্রে অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথা থেকে এসব অর্থ এসেছে এবং কারা তা সরবরাহ করেছে, তা যাচাই করা হচ্ছে।

এ জন্য নগদ লেনদেনের পাশাপাশি বিকাশসহ মোবাইল আর্থিক সেবা এবং হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থায়ন ও পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েকজনের নামও এসেছে। তবে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের পেছনে থাকা অর্থদাতাদের বিষয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে সারা দেশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নামে ১৪৩টি ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় ৪৩টি মামলা এবং ২০৫ জন গ্রেফতার হয়েছেন।

চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম নয় দিনে ছাত্রলীগের নামে ৩১টি মিছিলের ঘটনায় সাতটি মামলা হয়েছে এবং ৫০ জন গ্রেফতার হয়েছেন। একই সময়ে আওয়ামী লীগের নামে ২২টি ঝটিকা মিছিল ও একটি গোপন বৈঠকসহ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নসংক্রান্ত ৩৬টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঝটিকা মিছিলের অর্থায়নের বিষয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর নাম এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, তিনি বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। তবে অর্থায়নের অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

অন্যদিকে নাসির উদ্দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০২০ সালের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধেও ওঠা অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক ঝটিকা মিছিলগুলোকে ঘিরে সাংগঠনিক তৎপরতা, অর্থের উৎস এবং সম্ভাব্য পরিকল্পনার বিষয়গুলো আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

তদন্তকারীদের মতে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও আর্থিক লেনদেনের নথি যাচাই শেষ হলে ঝটিকা মিছিলের নেপথ্যে কারা ছিলেন এবং তাদের ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments