নিজস্ব প্রতিবেদক
রাষ্ট্রে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও কর্তব্যের কথা তুলে ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ধর্মটা হতেই পারে আমার একটি ধর্ম, আপনার একটি ধর্ম। কিন্তু রাষ্ট্রটা আমাদের সকলের। বাংলাদেশ নামে যে রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রটি আমাদের সকলের। অর্থাৎ ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার।”
তিনি বলেন, এ দেশে প্রত্যেক নাগরিকের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি দেশের প্রতি সবার দায়িত্ব ও কর্তব্যও রয়েছে। সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে কাজ করতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
অনুষ্ঠানকে আনন্দ ও মিলনমেলার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সকলেই এই দেশের সন্তান, এই দেশের মানুষ, বাংলাদেশি। আমরা প্রত্যেকে মানুষ। এটি হচ্ছে আমাদের আগের পরিচয়। এখানে উপস্থিত আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।”
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিষ্টান—তা বিবেচনা করা হয়নি। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে একসঙ্গে লড়াই করেছেন। একইভাবে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই আন্দোলনেও সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে সব ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন, আমরা আমাদের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। একজন আরেকজনকে আমরা চিনি, জানি এই দেশের নাগরিক, বাংলাদেশি হিসেবে।”
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা বক্তব্য দেন।


