কুমিল্লার লাকসামে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও সাংস্কৃতিক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে উচ্চাঙ্গ সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকালে উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন পেয়ার, দুপচার সংগীত একাডেমির সভাপতি সঞ্জীব বড়ুয়া এবং সুর সাধনা সংগীত একাডেমির সভাপতি সুমন দেবনাথ।
উপজেলা প্রশাসন এবং দুপচার ও সুর সাধনা সংগীত একাডেমি যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সংগঠন দুটির প্রশিক্ষক লিটন সিংহের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বয়সী সংগীতশিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ এই তিনটি বিভাগে মোট ৩০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন।
এর মধ্যে ‘ক’ বিভাগে ১০ জন, ‘খ’ বিভাগে ৯ জন এবং ‘গ’ বিভাগে ১১ জন প্রতিযোগী ছিলেন।
পাশাপাশি ছোট বিভাগেও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ক বিভাগে অভিজিৎ ভৌমিক প্রথম, পরিনিতা ঐশ্বর্য দিয়া দ্বিতীয় এবং স্নিগ্ধা সিংহ তৃতীয় হয়েছেন। অন্যদিকে ‘খ’ বিভাগে সুস্মিতা সিংহ প্রথম, দ্বিপান্নিতা পাল দ্বিতীয় এবং অসমী শীল তৃতীয় হয়েছেন। ‘গ’ বিভাগে প্রথম হয়েছেন রাজর্ষী চৌধুরী, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় হয়েছে যথাক্রমে অয়ন সরকার ও অন্বেষা সাহা।
এছাড়া ছোট বিভাগে প্রিয়সী দেবনাথ এয়ী প্রথম এবং সৃজা সাহা দ্বিতীয় হয়েছেন।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের পরিবেশনায় লাকসাম উপজেলা অডিটোরিয়াম মুখর হয়ে ওঠে। সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতা, মানবতাবাদ ও সাংস্কৃতিক চেতনা তুলে ধরার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের সংগীতচর্চায় উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, নজরুলের সংগীত ও সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করানো এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও এগিয়ে নেওয়াই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।