লাকসাম প্রতিনিধি:
উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার, জবাবদিহি ও পরিবর্তনের প্রত্যয় নিয়ে কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাইছেন কাউন্সিলর প্রার্থী সাইফুল ইসলাম খোকন। আসন্ন লাকসাম পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ৭ নম্বর ওয়ার্ডেও শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। এরই মধ্যে সাইফুল ইসলাম খোকনের প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
লাকসাম পৌরসভায় সাইফুল ইসলাম খোকনের নির্বাচনী ভাবনায় গুরুত্ব পাচ্ছে সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার, এলাকার প্রয়োজনভিত্তিক উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ এবং নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়গুলো। রাজনীতির প্রচলিত প্রতিশ্রুতির বাইরে বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই তাঁর প্রত্যাশিত কাউন্সিলর ভূমিকার অন্যতম দিক বলে তাঁর সমর্থকদের বক্তব্য।
একটি ওয়ার্ডের উন্নয়ন শুধু রাস্তা নির্মাণ কিংবা অবকাঠামো উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন জনপ্রতিনিধির কাছে মানুষের প্রত্যাশা—প্রয়োজনে পাশে থাকা, নাগরিক সমস্যার কথা শোনা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা তুলে ধরা এবং সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি অনুসরণ করা। সাইফুল ইসলাম খোকনের নির্বাচনী বার্তায়ও এমন জনসম্পৃক্ত কাউন্সিলরশিপের ধারণা গুরুত্ব পাচ্ছে। ওয়ার্ডবাসীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাঁদের সমস্যা ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে তিনি এগোতে চাইছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন।
লাকসাম লাকসাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের দৈনন্দিন নাগরিক সমস্যাগুলোর মধ্যে রাস্তা ও যোগাযোগব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, পরিচ্ছন্নতা এবং বিভিন্ন পৌরসেবা অন্যতম। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা নিয়ে ভোটারদের কাছে যেতে চান সাইফুল ইসলাম খোকন।
তাঁর সমর্থকদের মতে, উন্নয়ন পরিকল্পনা হতে হবে এলাকার মানুষের প্রয়োজনকে সামনে রেখে। কোথায় রাস্তা সংস্কার প্রয়োজন, কোথায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা জরুরি কিংবা কোন এলাকায় নাগরিক সেবা আরও কার্যকর করা দরকার—এসব বিষয়ে মাঠপর্যায়ে মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।এ ওয়ার্ডের তরুণদেরও তাঁর সম্ভাব্য নির্বাচনী পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তরুণদের খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, শিক্ষার পরিবেশকে উৎসাহিত করা এবং বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা সামনে আসছে।
স্থানীয় নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে তরুণদের প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করাও প্রার্থীদের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
সাইফুল ইসলাম খোকনের সম্ভাব্য নির্বাচনী ভাবনার অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে—কাউন্সিলর পদকে শুধু একটি রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পদ হিসেবে না দেখে জনগণের সেবা করার দায়িত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, নাগরিক সমস্যা নিয়ে কথা বলা এবং ওয়ার্ডের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চান তিনি—এমন প্রত্যাশার কথাই তাঁর সমর্থকদের কাছ থেকে শোনা যাচ্ছে। তবে নির্বাচনী মাঠে প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়ন—দুটির মধ্যে পার্থক্যই শেষ পর্যন্ত প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতার বড় মাপকাঠি হবে।
নির্বাচনী মাঠে জনপ্রিয়তা কিংবা প্রচারণার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ভোটারদের আস্থা। মানুষের সঙ্গে প্রার্থীর সম্পর্ক, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সামাজিক ভূমিকা, এলাকার সমস্যা সম্পর্কে তাঁর ধারণা এবং বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা—সবকিছুর সমন্বয়েই তৈরি হবে ভোটের সমীকরণ।
সাইফুল ইসলাম খোকনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাঁর উন্নয়ন ও পরিবর্তনের বার্তাকে সাধারণ মানুষের কাছে কতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা এবং সেই বার্তাকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়া।


