মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ-লাকসাম আঞ্চলিক সড়কের গোবিন্দপুর এলাকায় নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজ দীর্ঘায়িত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়ক ব্যবহারকারীরা। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন জরুরি কাজে যাতায়াতকারী মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মনোহরগঞ্জ-লাকসাম আঞ্চলিক সড়কের গোবিন্দপুর এলাকায় নির্মাণাধীন ব্রিজ নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের ধীরগতির কারণে দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কের আশপাশে কাদা, পানি ও খানাখন্দের সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। ছোট যানবাহন ও মোটরসাইকেল চালকদের পাশাপাশি পণ্যবাহী যানবাহন ও গণপরিবহনও চলাচলে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
গোবিন্দপুর এলাকায় নির্মাণাধীন ব্রিজটি মনোহরগঞ্জ ও লাকসামের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে দুই উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করেন। ফলে নির্মাণকাজে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিলে এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় তারা উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু কাজ শেষ হতে বিলম্ব হওয়ায় সেই প্রত্যাশার পরিবর্তে তৈরি হয়েছে ভোগান্তি। দীর্ঘ সময় ধরে নির্মাণকাজ চলায় অনেক সময় যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের যাতায়াতেও বিড়ম্বনা বাড়ছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর নির্মাণকাজ চলাকালে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু এসব ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকলে নির্মাণকাজের কারণে জনদুর্ভোগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
স্থানীয়রা দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণস্থলে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তাদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল উদ্দেশ্য মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা। তাই কোনো উন্নয়নকাজ দীর্ঘসূত্রতার কারণে যদি সাময়িকভাবে জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়, তাহলে তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে কাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার উদ্যোগ প্রয়োজন।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হলে এর জন্য দায়ী কারা এবং প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি কতটুকু। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্য ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।
মনোহরগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সড়ক ও সেতু নির্মাণ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত গোবিন্দপুর এলাকায় নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজ সম্পন্ন করবে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনদুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, উন্নয়নকাজের সুফল পেতে হলে শুধু প্রকল্প গ্রহণ নয়, সময়মতো ও সঠিকভাবে কাজ শেষ করাও জরুরি। তাই গোবিন্দপুরের নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজে গতি ফিরিয়ে এনে দ্রুত জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি এখন সময়ের দাবি।


