নিজস্ব প্রতিবেদক:
নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নাজমা বেগমের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ছাত্রদলকে নিয়ে দেওয়া একটি পোস্ট ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টটিতে ১৭টি বানান ভুলসহ একাধিক ভাষাগত ও ব্যাকরণগত অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একজন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এমন ভুলের বিষয়টি সামনে আসার পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি অধ্যক্ষ নাজমা বেগম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ছাত্রদলকে উদ্দেশ্য করে একটি স্ট্যাটাস প্রকাশ করেন। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এর বক্তব্যের পাশাপাশি লেখার বানান ও ভাষাগত শুদ্ধতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। কয়েকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী পোস্টটির বিভিন্ন শব্দ ও বাক্য বিশ্লেষণ করে একাধিক বানান ভুল এবং ভাষাগত অসংগতি চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের দাবি, পোস্টটিতে মোট ১৭টি বানান ভুল রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, একজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে অধ্যক্ষের ভাষা ও লেখার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের শুদ্ধ ভাষা চর্চা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাঁদের ওপর, তাঁদের নিজেদের লেখালেখিতেও শুদ্ধ বানান ও ভাষার ব্যবহার প্রত্যাশিত।
শিক্ষক ও সচেতন মহলের কয়েকজনের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিগত মত প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য ও লেখার ক্ষেত্রে পেশাগত মর্যাদা এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি। কোনো রাজনৈতিক বা ছাত্রসংগঠনকে নিয়ে মন্তব্য করতে গেলে ভাষার শালীনতা, তথ্যের যথার্থতা ও শব্দচয়নের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, সমালোচনার বিষয়টি শুধু বানান ভুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পোস্টটির বক্তব্য, উপস্থাপনার ধরন এবং একজন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে এ ধরনের মন্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তাঁদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত।
তবে পোস্টটিতে ১৭টি বানান ভুল থাকার অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে পোস্টটির পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করাও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নাজমা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, বিষয়টি নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের অবসানে অধ্যক্ষের বক্তব্য ও পোস্টটির যথাযথ ব্যাখ্যা সামনে আসবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা, শিক্ষকসুলভ আচরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল মত প্রকাশের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাই সচেতন হবেন।


