কুমিল্লার গুরুত্বপূর্ণ পৌর এলাকা লাকসাম পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও দুর্নীতিমুক্ত পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেয়র প্রার্থী এডভোকেট বদিউল আলম সুজন। তিনি বলেছেন, পৌরসভা হবে জনগণের সেবার প্রতিষ্ঠান। নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দ্রুত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
আসন্ন লাকসাম পৌরসভা নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালেে এডভোকেট বদিউল আলম সুজন এসব কথা বলেন। সম্প্রতি ৬ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগের সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় লাকসাম পৌরসভার নাগরিক সমস্যা, পরিচ্ছন্নতা, জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর বক্তব্যে এসব বিষয় গুরুত্ব পায়।
এডভোকেট বদিউল আলম সুজন বলেন, “একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন এবং দুর্নীতিমুক্ত লাকসাম পৌরসভা গড়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
লাকসাম পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগর হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, মশক নিয়ন্ত্রণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সুজন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ আগস্ট লাকসামে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধন করেন তিনি। কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
লাকসাম পৌরসভার নাগরিক সেবা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন এডভোকেট বদিউল আলম সুজন। তাঁর বক্তব্যে পৌরসভার সেবা নিতে গিয়ে নাগরিকদের হয়রানি কমানো, সেবার মান বাড়ানো এবং প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
তাঁর প্রার্থিতা ইতোমধ্যে স্থানীয় নির্বাচনী মাঠে আলোচনায় এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত লাকসাম পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
লাকসাম পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যাগুলোর মধ্যে জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সড়ক ব্যবস্থাপনা অন্যতম। বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
এসব সমস্যা নিরসনে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সুজনের নির্বাচনী বক্তব্যেও লাকসাম পৌরসভাকে পরিকল্পিত ও নাগরিকবান্ধব করার প্রত্যয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে।
এডভোকেট বদিউল আলম সুজনের বক্তব্যে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তাঁর লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে এমন একটি পৌরসভা ব্যবস্থা, যেখানে নাগরিকরা সহজে সেবা পাবেন এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ থাকবে।
স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের করেছেন তিনি। সম্প্রতি লাকসামে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিনামূল্যে খৎনা কর্মসূচিতে তাঁর সহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনায় করা হয়েছে। আসন্ন কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন সুজন। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, নাগরিক অধিকার ও জনসেবার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
লাকসাম পৌরসভা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও জনবসতির দিক থেকে এ পৌর এলাকার গুরুত্ব রয়েছে। ফলে একটি পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা, উন্নত সড়ক ও ড্রেনেজ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং কার্যকর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা ভোটারদের অন্যতম প্রত্যাশা।
কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভাকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত করার যে প্রত্যয় এডভোকেট বদিউল আলম সুজন ব্যক্ত করেছেন, নির্বাচিত হলে তা বাস্তবে কতটা রূপ দিতে পারেন—সেটিই এখন স্থানীয় ভোটারদের আগ্রহের অন্যতম বিষয়।


