সৈয়দ মুজিবুর রহমানঃ
উপমহাদেশের একমাত্র মুসলিম নারী নবাব নারী শিক্ষার অগ্রদূত প্রজাহিতৈষী জমিদার নবাব ফয়জুন্নেছার চৌধুরানীর ওয়াকফকৃত এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সম্পদ হিসেবে গেজেটভুক্ত সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা চালাচ্ছে একশ্রেণির ভূমিদস্যুরা। ভূমিদস্যূদের এমন অপতৎপরতায় তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতনমহল। তাঁরা এসব ভূমিদস্যূদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সম্পদ হিসেবে গেজেটভুক্ত ওই সম্পত্তি উদ্ধারে যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থার দাবি জানান।
স্থানীয় এলাকাবাসী, নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার লাকসামে ঐতিহাসিক নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের লাগোয়া আরএস খতিয়ানভূক্ত ২২২২ দাগে নবাব ফয়জুন্নেছার চৌধুরানী কর্তৃক ওয়াকফকৃত এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সম্পদ হিসেবে গেজেটভুক্ত ৭১ শতক জায়গা রয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ওই জায়গা জবরদখলের উদ্দেশ্যে কলেজ ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজে একটি প্রভাবশালীমহল বাধা দেয়। এই সময় তাঁরা জোরপূর্বক ওই জায়গায় বালু ফেলে দখল এবং প্লট আকারে বিক্রির পাঁয়তারা করছে।
এলাকার একাধিক সূত্র জানায়, কলেজ ক্যাম্পাসের লাগোয়া দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এই ৭১ শতাংশ জায়গা নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী কর্তৃক ওয়াকফকৃত। ওয়াকফ এস্টেটের অন্তর্ভুক্ত এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সম্পদ হিসেবে ওই জায়গা নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ি জাদুঘরের নামে সরকারি গেজেটভুক্ত রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) সংসদীয় আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর নামে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বুনছেন। কিন্তু ভূমিদস্যূদের এমন অপতৎপরতা জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এবং কলেজের নতুন অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়বে ঐতিহাসিক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর ও নবাব ফয়জুন্নেছার চৌধুরানীর ভাবমূর্তি।
স্থানীয় সচেতনমহল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভূমিদস্যূদের এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ওয়াকফ প্রশাসন এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চরম উদাসীনতা ও নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপমহাদেশের একমাত্র মুসলিম নারী নবাব প্রজাহিতৈষী এবং নারী শিক্ষার অগ্রদূত মহিয়সী নারী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য মোট ২৯৭ একর জমি ওয়াকফ রাহে লিল্লাহ করে দিয়েছেন। কিন্তু এরই মধ্যে প্রায় ২৯০ একর সম্পত্তি বিভিন্ন ভাবে বেহাত হয়ে গেছে। এছাড়াও বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতর নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী স্থাপিত পোস্ট অফিস সংলগ্ন ওয়াকফকৃৃত ২২১৬ দাগের ১৪ শতক জমিও এখন ভূমিদস্যূদের জোরপূর্বক দখলের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একটি চক্র জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ওয়াকফ এস্টেটের ওই সম্পত্তিগুলো নিজেদের নামে ত্রুটিপূর্ণ বিএস খতিয়ান সৃজন করেছে। ওই চক্রটি এসব জমি অবৈধভাবে দখল ও চড়া মূল্যে ক্রয়-বিক্রয়ের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে সম্প্রতি একটি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং এলাকার সচেতনমহল ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর আইনগত পদক্ষেপসহ ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এই ব্যাপারে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মুনির আহাম্মদ জানান, কলেজের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু একটি মহল এতে বাধাগ্রস্ত করছেন। এটি একেবারে বেআইনী কাজ। কোনোভাবে মেনে তা নেওয়া যায় না। তিনি এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।


