লাকসাম প্রতিনিধিঃ
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহর আলোকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবন গড়ে তোলার আহ্বানের মধ্য দিয়ে কুমিল্লার লাকসামে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাঁকজমকপূর্ণ সীরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্স। উপজেলা সীরাতুন্নবী (সা.) বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ কনফারেন্সে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক আলেম-ওলামা অংশ নেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লাকসাম উত্তর বাজারস্থ উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।
পবিত্র সীরাত মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টুমচর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা হারুন আল মাদানী (দা. বা.)। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুরাদনগর জামিয়া ইসলামিয়া মোজাফফরুল উলূমের মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস মুফতি আমজাদ হোসাইন।
বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা লালবাগ নবাবগঞ্জ বড় মসজিদের খতীব মুফতি জোনাঈদ কাসেমী, লাকসাম গাজীমুড়া কামিল মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল ড. আমিনুল ইসলাম, সাতবাড়ীয়া দারুসসুন্নাহ মাদরাসার মহাপরিচালক মাওলানা মোতালেব হোসাইন সালেহী এবং সরকারি হাসপাতাল জামে মসজিদের খতীব মাওলানা মামুনুর রশীদ আল কাফী।
এ সময় কাসেমুল উলূম মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতি নাঈমুল ইসলাম সীরাতবিষয়ক প্রবন্ধ পাঠ করেন।
কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন লাকসাম মদিনাতুল উলূম ইসলামিয়া মাদরাসার মুহতামিম ও উপজেলা সীরাতুন্নবী (সা.) বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা আবুল খায়ের (দা. বা.)।
কনফারেন্সের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা সীরাতুন্নবী (সা.) বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা রিয়াজুল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাওলানা জিয়াউল হক তাহেরপুরী ও হাফেজ ক্বারী মাহবুব হাবিব উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় ওলামায়ে কেরামের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আল-আবরার হজ কাফেলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা আব্দুর রব ফারুকী, মাওলানা জামাল উদ্দিন, মুফতি মাহবুবুল হক, মাওলানা খোরশেদ আলম, মাওলানা সালমান, মাওলানা খোরশেদ আলম সিদ্দিকী, মাওলানা নিজামুদ্দিন, মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা আনিসুর রহমান মজুমদার, মাওলানা মোস্তফাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
কনফারেন্সের আলোচনায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বক্তারা তাঁর অনন্য চরিত্র, মানবিকতা, ন্যায়বোধ ও সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বক্তারা বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শ শুধু ব্যক্তিজীবনের জন্য নয়; পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তা অনুসরণীয়। তাঁর আদর্শ ধারণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে নৈতিকতা, মানবিকতা ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
তারা আরও বলেন, সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও নানা সংকট মোকাবিলায় মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ পথনির্দেশনা। তাই ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের পাশাপাশি সামাজিক জীবনেও তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের চর্চা বাড়াতে হবে।
কনফারেন্স থেকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ অনুসরণ এবং তাঁর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার জন্য সবার প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়।


