নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল, স্লোগান ও উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ১০ আইনজীবীসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র এবং আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে কুমিল্লা জেলা জুড়ে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তৌহিদুল আনোয়ার।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে একদল ব্যক্তি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তারা মিছিল ও স্লোগানের মাধ্যমে আদালতের স্বাভাবিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ডকে গতিশীল ও উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে মিছিল ও স্লোগানের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং আদালত প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে জনমনে ঘৃণা ও আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—কুমিল্লা বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ও বরুড়ার আবু ইউসুফ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক বুড়িচংয়ের আব্দুল আলিম, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সদস্য কুমিল্লা রেইসকোর্স এলাকার নসরুল হাসান অপু, কুমিল্লা মহানগর যুব মহিলা লীগের যুগ্ম সম্পাদক আছিয়া মেহজাবিন খান নিশু, কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি বুড়িচংয়ের শাহ আলম এবং বুড়িচং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন।
এ ছাড়া কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক বরুড়ার জালাল আহমেদ সাজু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ব্রাহ্মণপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, বুড়িচং উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রেজাউল করিম খোকন, বুড়িচং উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, বুড়িচংয়ের শিকারপুর গ্রামের মেজবাহ উদ্দিন জনি ও সাইফুল ইসলাম সানি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক রেজাউল করিম শাওন, কুমিল্লা মহানগর যুবলীগ নেতা সানি খন্দকার, নগরীর মনোহরপুর এলাকার তারেক, কুচাইতলি গোল্ডেন সিটি এলাকার রাজন, কুমিল্লা বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, বুড়িচং উপজেলার নিমসার কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. ইসমাইল এবং নিমসার কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মো. ইমনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, মামলার ঘটনায় জড়িতদের আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তবে তদন্তে কেউ ঘটনায় জড়িত ছিলেন না বলে প্রমাণিত হলে তাকে অভিযোগ থেকে বাদ দেওয়া হবে।
এদিকে আদালত প্রাঙ্গণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় রাজনৈতিক মিছিল-স্লোগানের অভিযোগে মামলা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। মামলার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।


