Homeজাতীয়বিদ্যুৎ খাতে নতুন চাপ, কয়লাভিত্তিক দুই কেন্দ্রে বকেয়া ৪৬৫১ কোটি টাকা

বিদ্যুৎ খাতে নতুন চাপ, কয়লাভিত্তিক দুই কেন্দ্রে বকেয়া ৪৬৫১ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দেশে একদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ, অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাতে বাড়ছে সরকারের আর্থিক দায়। মাতারবাড়ী ও পটুয়াখালীর দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ ঘাটতি ও বকেয়া পরিশোধে সরকারকে গুনতে হবে বিপুল অর্থ। এর মধ্যে শুধু মাতারবাড়ী কেন্দ্রের বকেয়াই প্রায় ৪ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা

বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখা, ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ সামলাতে বকেয়া অর্থ দ্রুত ছাড়ের অনুরোধ জানিয়ে অর্থ সচিবকে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের নথি অনুযায়ী, আরএনপিএলের পটুয়াখালী ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্র এবং সিপিজিসিবিএলের মাতারবাড়ী ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ঘিরে ট্যারিফ ঘাটতির বড় দায় তৈরি হয়েছে। পিডিবি উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে গ্রাহকের কাছে কম দামে বিক্রি করায় এই ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিদেশি ঋণের দায়। পটুয়াখালী কেন্দ্রের ঋণের ৫০ শতাংশের জন্য সরকারের সার্বভৌম গ্যারান্টি রয়েছে। পরবর্তী কিস্তি হিসেবে ১৩৬.১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধের দায়ও সামনে এসেছে।

পিডিবির হিসাবে, চলতি বছর বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাহিদা ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ প্রায় ৫২ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা দেওয়ার প্রক্ষেপণ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু বকেয়া পরিশোধে সমস্যার সমাধান হবে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয়মূল্য, ক্যাপাসিটি চার্জ ও গ্রাহক পর্যায়ের ট্যারিফের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না হলে প্রতিবছরই নতুন করে ভর্তুকির চাপ তৈরি হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সতর্ক করেছে, বকেয়া পরিশোধে বিলম্ব হলে পটুয়াখালী কেন্দ্রের পরিচালনা ও জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হতে পারে। ফলে লোডশেডিংয়ের চাপের মধ্যেই বিদ্যুৎ খাতে বাড়ছে আর্থিক সংকটের নতুন ঝুঁকি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments