Homeসারাদেশজেলার খবরমুরাদনগরে বাড়িতে হামলা, ইউপি সদস্য নিহত; স্ত্রী গুরুতর আহত

মুরাদনগরে বাড়িতে হামলা, ইউপি সদস্য নিহত; স্ত্রী গুরুতর আহত

আব্দুর রহমান সাঈফ, কুমিল্লাঃ
কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গরা থানা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মো. আনোয়ার হোসেন (৪০) নামে এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগমও গুরুতর আহত হয়েছেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের উত্তর পেন্নাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. আনোয়ার হোসেন শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। তিনি উত্তর পেন্নাই গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর পেন্নাই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মেম্বার ও বর্তমান ইউপি সদস্য আনোয়ার মেম্বারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন আনোয়ার মেম্বার। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরাজিত হওয়ার পর থেকে প্রায় আড়াই বছর তিনি গ্রামছাড়া ছিলেন বলে স্বজনদের দাবি।

নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগমের অভিযোগ, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপনে নিজ বাড়িতে আসেন আনোয়ার মেম্বার। বিষয়টি জানতে পেরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ফিরোজ মেম্বার ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আনোয়ারকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মোমেনা বেগম আরও অভিযোগ করেন, হামলার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে এলাকায় ডাকাত পড়েছে—এমন ঘোষণা মসজিদের মাইকে প্রচার করা হয়। আহত আনোয়ারকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের আটকে রাখা হয়। পরে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের সহায়তায় সকাল ৬টার দিকে তাকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুস সাকির জানান, আনোয়ার হোসেনকে হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা করে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের চাচাতো ভাই মো. জসিমের দাবি, প্রায় আড়াই বছর ধরে আনোয়ার গ্রামছাড়া ছিলেন। কিছুদিন আগে গ্রামে ফেরার চেষ্টা করলে ফিরোজ মেম্বারের লোকজনের পক্ষ থেকে তার কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ওই টাকা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, হামলার পর আনোয়ারকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে পরিবারের লোকজনকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি। পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন হত্যাকারীদের পক্ষে থাকা একটি প্রভাবশালী মহল। তারা আনোয়ার হোসেনকে ডাকাত ও সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে বাঙ্গরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম বলেন, “নিহত ব্যক্তি লোক হিসেবে ভালো ছিলেন না। এলাকাবাসী তাকে পছন্দ করত না। গতকাল রাতেও ওই ব্যক্তি এলাকায় গন্ডগোল করতে আসছিলেন। তখন এই ঘটনা ঘটে। এর বেশি কিছু জানি না। তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে।”

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments