Homeজাতীয়কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান : হুইপ নিজান

কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান : হুইপ নিজান

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে জেলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নেতারা বলেছেন, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নে যা যা প্রয়োজন, তা নিয়ে সবাই একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের আঞ্চলিক বিরোধ বা বিদ্বেষে না জড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সোমবার কুমিল্লা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজনৈতিক নেতারা এসব কথা বলেন।

এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ ও কুমিল্লার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের পক্ষে তাঁর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি তখন কুমিল্লার দায়িত্বে ছিলাম না। কিন্তু তারপরও কুমিল্লা বিভাগের দাবিতে একমত পোষণ করে সই দিয়েছি।’

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ সম্মিলিতভাবে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা বিভাগ করতে যা যা প্রয়োজন, আমরা সবাই মিলে বসে করব। কুমিল্লা বিভাগ হবেই।’

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদে বাংলাদেশে দুটি বিভাগ করার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ রয়েছে। এর একটি কুমিল্লা এবং অন্যটি ফরিদপুর।

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে আঞ্চলিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা বিভাগ তো হয়েই গেছে; এ নিয়ে আমরা যেন কোনো প্রকার আঞ্চলিক বিদ্বেষে না জড়াই।’ কুমিল্লার সঙ্গে নোয়াখালীর দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও আত্মীয়তার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে নোয়াখালী ও কুমিল্লার মানুষের মধ্যে কোনো ধরনের আঞ্চলিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হোক—এটি তারা চান না।

এদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকার নিরাপত্তা, আয়তন, জনসংখ্যা ও নাগরিক চাহিদার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কুমিল্লায় মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনের উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন।

তিনি বলেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৫ বছর হলেও এখনো মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠিত হয়নি। তবে বর্তমান সরকার দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা শহরের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় মেট্রোপলিটন পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি গঠিত হলে নগর এলাকায় পুলিশের জনবল ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত সংকট অনেকটা কমে আসবে।

এর আগে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় কুমিল্লার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং চলমান ও প্রস্তাবিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন, কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল ইসলাম শাওন, কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্র খন্দকার মারুফ হোসেন।

এ ছাড়া কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজি আকতার, জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও কর্মকর্তারা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কুমিল্লার উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা আরও গতিশীল করার পাশাপাশি সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments