নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার চারজনই ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও তদন্তের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা এখনো চলমান রয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রথমে তিনজনকে এবং পরে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। উদ্ধার হওয়া আলামতের মধ্যে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনও রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং একটি কিশোরের বাড়ি থেকে ফোনটি উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছিল পুলিশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বয়স নিয়েও যাচাই-বাছাই চলছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন কিশোর। দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি হলেও একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য তথ্য যাচাই করে তাদের প্রকৃত বয়স নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আটকদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড অনেকটা কিশোর অপরাধী চক্রের মতো। নিহত অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের পরিচয়, বন্ধুত্ব ও নিয়মিত ওঠাবসা ছিল। তারা প্রায়ই একসঙ্গে আড্ডা দিত। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের অনেকেই অপ্রতিমের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সে বড়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তবে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। পুলিশের তদন্ত, ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত বিষয় আরও স্পষ্ট হবে।
তিনি বলেন, পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে। এরই মধ্যে অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং তার দাফনও সম্পন্ন হয়েছে। রোববার সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কোটবাড়ি গন্ধমতিতে নিজ বাড়ির পাশের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
অপ্রতিমের নিখোঁজের ঘটনায় শনিবার রাতেই সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। এর আগে শুক্রবার দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোনের তথ্যসহ বিভিন্ন আলামত যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত অভিযোগপত্র দেবে। এরপর বিচার বিভাগ মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারও স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
এদিকে অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে রোববার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। এতে হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানানো হয়।


