Homeজাতীয়বরিশালে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা: থানায় লিখিত অভিযোগ

বরিশালে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা: থানায় লিখিত অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের টিয়াখালী সড়কে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সংবাদ ও ভিডিওচিত্র ধারণ করতে গিয়ে পাশবিক হামলার শিকার হয়েছেন দুই পেশাদার সাংবাদিক। তারা হলেন- বরিশালের স্থানীয় ‘দৈনিক বরিশাল মুখপত্র’-এর বার্তা সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ এবং যুগ্ম বার্তা সম্পাদক সাইফুল অপূর্ব। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটার পরপরই বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলেও পুলিশের ভূমিকা ও কার্যকারিতা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠেছে। থানা পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

দাখিলকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন টিয়াখালী সড়কে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান মুরাদ ও সাইফুল অপূর্ব ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ ভিডিওচিত্র ধারণ করছিলেন। সংবাদ সংগ্রহের এই দৃশ্য দেখতে পেয়ে তথাকথিত বিএনপি নেতা বাবুল মোহরীর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে সানি, দিপু, জুয়েল, জাকির ও হায়দারসহ সংঘবদ্ধ ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল সাংবাদিকদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।

অভিযুক্তরা প্রথমে সাংবাদিকদের পেশাগত পরিচয় নিয়ে কটূক্তি করে এবং ‘ভুয়া সাংবাদিক’ ও ‘আওয়ামী লীগের লোক’ বলে গালিগালাজ ও চরম অপমান-অপদস্থ করতে থাকে।একপর্যায়ে তারা চড়াও হয়ে সাংবাদিকদের হাত থেকে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ধারণকৃত সংঘর্ষের সমস্ত ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলার জন্য প্রাণনাশের হুমকি ও শারীরিক-মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। সাংবাদিকরা পেশাগত নিরপেক্ষতার কথা জানালে বাবুল মোহরী ও তার সঙ্গীরা তাঁদের বেপরোয়াভাবে মারধর ও লাঞ্ছিত করে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেয়।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় হামলাকারীরা আশপাশের আরও বেশ কিছু যুবককে ডেকে এনে নিজেদের ছাত্রদল ও যুবদলের প্রভাবশালী কর্মী পরিচয়ে মব তৈরি করে এবং সাংবাদিকদের ওপর সংঘবদ্ধভাবে তীব্র আক্রমণ চালায়। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এমন ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় বরিশালের সর্বস্তরের সংবাদকর্মী, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সচেতন নাগরিক সমাজের প্রশ্ন—একটি গণতান্ত্রিক দেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বার্থে রাজনৈতিক সংঘাতের দৃশ্য ধারণ করাই কি সাংবাদিকদের অপরাধ? স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের স্পষ্ট বক্তব্য, স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করতেই পেশাদার সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করা, মোবাইল ছিনতাই ও ভিডিও চিত্র জোরপূর্বক মুছে ফেলার মতো অপরাধমূলক অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, যা স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বরিশালের সাংবাদিক সমাজ দাবি জানিয়েছে, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা দলীয় প্রভাবকে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত সনাক্ত করতে হবে। একই সাথে পেশাগত কাজে বাধা, ফোন ছিনতাই, ভিডিও মুছতে বাধ্য করা এবং হামলায় জড়িত বাবুল মোহরী, সানি, দিপু, জুয়েল, জাকির ও হায়দারসহ পুরো হামলাকারী চক্রকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হচ্ছে।

এদিকে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আসাদুজ্জামান মুরাদ জানিয়েছেন, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে তারা বাধ্য হয়েই আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। ইতিমধ্যেই মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রমাণাদি সংগ্রহের কাজ পুরোদমে চলমান রয়েছে।

রাজনীতি কিংবা কোনো সংগঠনের দাপট দেখিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় জানিয়ে বাবুল মোহরী, সানি, দিপু, জুয়েল, জাকির ও হায়দারসহ জড়িতদের অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হচ্ছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments