Homeজাতীয়লাকসাম রেলওয়ে থানা পুলিশ বিশেষ অভিযানে বিপুল মালামাল উদ্ধার

লাকসাম রেলওয়ে থানা পুলিশ বিশেষ অভিযানে বিপুল মালামাল উদ্ধার

মশিউর রহমান সেলিম,  কুমিল্লা:
পুর্বাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী লাকসাম জংশনের আওতাধীন রেলওয়ে জিআরপি পুলিশ বর্তমান বিএনপি জোট সরকারের ৮মাস শাসনামলে মাদক, চোরাচালানবিরোধী ও বিশেষ অভিযানে ২৮টি মামলা, ১৯জন গ্রেপ্তার ও বিপুল পরিমান অবৈধ মালামাল উদ্ধার সক্ষম হয়েছে। রেলওয়ে জিআরপি থানা পুলিশ ২০২৬ সালে সরকারের ৮মাসে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে দুই শতাধিক কেজি গাঁজা, ইয়াবা ট্যাবলেট, চোলাই মদ, বিদেশি হুইস্কি, ভারতীয় নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ ও বিভিন্ন চোরাচালান পণ্য উদ্ধার, একাধিক মামলা এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তিদের।

রেলওয়ে জিআরপি থানা সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে পৃথক দুটি মাদক মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। মে মাসে চারটি মাদক মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে ১০ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা ও ৮টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জুনে ছয়টি মাদক মামলায় ৩০ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। জুলাই মাসে পাঁচটি মাদক ও একটি চোরাচালান মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ৭ কেজি গাঁজা, ৩০ লিটার চোলাই মদ, ২০ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ, ৫০ প্যাকেট ভারতীয় চকলেট এবং ১৪ বোতল বিদেশি হুইস্কি উদ্ধার করা হয়।

আগস্ট মাসে পাঁচটি মাদক মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে ৫২ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা, ৩৯টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। সেপ্টেম্বর মাসে পাঁচটি মাদক ও দুটি চোরাচালান মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ২১ কেজি গাঁজা এবং ভারতীয় ১৩৬ বোতল Emami ৭ Oils in One  ও ১০৭ বোতল Keo Karpin Olivoyl উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ অক্টোবর মাসে একটি মাদক মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

সুত্রটি আরো জানায়, এ ৮মাসের বিশেষ অভিযানে সব মিলিয়ে ২৮টি মামলা, গেপ্তার ১৯, ১৩০ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা, ৪৭টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৬০ লিটার চোলাই মদসহ বিভিন্ন মাদক ও চোরাচালান পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ছয়টি চোরাচালান মামলা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে একাধিক মামলা রুজু হয়েছে। এদিকে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন। অপরাধ দমনে পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপরতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর নির্বাচনী এলাকায় মাদক ও অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকলে রেলপথে মাদক পরিবহন ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।

এ ব্যপারে লাকসাম রেলওয়ে জিআরপি থানার অফিসার ইনচার্জ রাজীব চন্দ্র কর বলেন, মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুর্বাঞ্চলীয় রেলপথকে মাদক, নানা ধরনের অপরাধ মুক্ত রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। মাদক কারবারি ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সকল মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments