লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
আসন্ন লাকসাম পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বদিউল আলম সুজন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এ প্রার্থী আইন পেশার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণও নির্বাচনী মাঠে তাঁর তৎপরতার বিষয়টি সামনে এনেছে।
আইন পেশায় দীর্ঘ পথচলা :
অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন লাকসাম উপজেলার গাজীমুড়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১২ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে আইনজীবী হিসেবে সনদ লাভ করেন এবং কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সদস্য হয়ে আইন পেশায় যুক্ত হন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতি পান। আইন পেশার পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন। ২০২৪ সালে কুমিল্লা জেলা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে তাঁর নিয়োগের খবরও প্রকাশিত হয়।
করোনাকালে মানবিক কর্মকাণ্ড:
বদিউল আলম সুজনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের আলোচনায় করোনাভাইরাস মহামারির সময়ের মানবিক উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, করোনা মহামারির সংকটময় সময়ে তিনি একটি সেবামূলক সংগঠনের মাধ্যমে আক্রান্ত ও অসহায় মানুষের কাছে চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা এবং মৃত্যুবরণকারীদের দাফন-কাফনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ মানবিক কাজেও তিনি ও তাঁর সহযোগীরা যুক্ত ছিলেন।
করোনাকালের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লিখিত এসব কর্মকাণ্ডের পরিমাণ, উপকারভোগীর সংখ্যা ও বিস্তারিত পরিসংখ্যানের স্বাধীন সরকারি যাচাই সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি—তাই বিষয়গুলোকে তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রকাশিত দাবি ও প্রতিবেদন হিসেবে দেখা উচিত।
মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে উদ্যোগ:
সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে লাকসামে মশক নিধন অভিযানের উদ্যোগ নেন অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন। ৭ আগস্ট ২০২৬ লাকসামে আয়োজিত কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
কর্মসূচিতে তিনি বলেন, শুধু প্রশাসনের উদ্যোগে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ সম্ভব নয়; এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন। তিনি বাসাবাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
মেয়র প্রার্থী হিসেবে তাঁর এমন উদ্যোগকে সমর্থকরা জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
মাদকবিরোধী অবস্থান:
লাকসামে মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরির কর্মসূচিতেও তাঁর অংশগ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়। ২৬ জুন ২০২৬ আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাইকেল র্যালি ও আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সেখানে লাকসাম থেকে মাদক নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় পর্যায়ে মাদক, কিশোর অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধকে পৌর এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হয়। এ কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় জননিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়তা:
আগস্টের শুরুতে লাকসামে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজনের উপস্থিতির খবর প্রকাশিত হয়েছে। ১ আগস্টের গণমিছিল ও সমাবেশে তাঁকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত লাকসাম পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া ৫ আগস্ট লাকসামে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পৌরসভা ও উপজেলা জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পৌরবাসীর প্রত্যাশা:
লাকসাম পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা, যানজট, নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ।
মেয়র পদে যে প্রার্থীই নির্বাচিত হন, এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নই হবে তাঁর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজনের ক্ষেত্রে তাঁর সমর্থকরা আইন পেশার অভিজ্ঞতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং মানবিক উদ্যোগকে ইতিবাচক দিক হিসেবে তুলে ধরছেন।
ভোটারদের নজর এখন প্রতিশ্রুতির দিকে:
নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি ও অতীত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। লাকসাম পৌরসভাকে কীভাবে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও নাগরিকবান্ধব করা হবে—এ বিষয়ে প্রার্থীদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হতে পারে।
অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজনের প্রার্থিতা ঘিরে ইতোমধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনজীবী হিসেবে তাঁর দীর্ঘ পথচলা, করোনাকালে মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রকাশিত তথ্য, মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাম্প্রতিক উদ্যোগ এবং মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে তাঁর প্রার্থিতা নির্বাচনী মাঠে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত লাকসাম পৌরবাসী কোন প্রার্থীকে তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন, তা নির্ধারণ করবে ভোটারদের রায়। তবে নির্বাচনী মাঠে অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজনের প্রার্থিতা যে ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও প্রকাশিত সংবাদগুলো তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।


