মোঃ অনিক দেওয়ান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মা নদীর পানির স্তর সতর্কসীমার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে কোথাও কোথাও পানি ঢুকে পড়েছে বসতবাড়িতে,শিক্ষা প্রতিষ্ঠনে ও পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ,এতে দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
নদী তীরবর্তী সদর উপজেলার শাহজাহানপুর, আলাতুলি ও নারায়নপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা,উজিরপুর ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।। অনেকেই আবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন।
পানি দ্রুত কমে না এলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। পানিবন্দি মানুষের সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি নিয়ে। পানির উৎসগুলো ডুবে যাওয়ায় নিরাপদ পানি সংগ্রহ করতে দূরের এলাকায় যেতে হচ্ছে। এতে নারী,শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি বেড়েছে। পাশাপাশি পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্লাবিত হয়েছে কৃষিজমিও।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৬২ হেক্টর জমির আমন-আউশ ধান,গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি এলাকার বাসিন্দারা।
জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সূত্রে জানা গেছে,পানি ঢুকে পড়ায় সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। পানি ওঠায় এসব প্রতিষ্ঠানে আপাতত পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে,
পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৭৯মিটার। নদীটির বিপৎসীমা ২২ দশমিক ৫ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
পদ্মার পাশাপাশি জেলার মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীতেও পানি বাড়ছে। মহানন্দা নদীর খালঘাট গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা ১৯ দশমিক ৫০ মিটার, বিপৎসীমা ২০ দশমিক ৫৫ মিটার। অন্যদিকে পুনর্ভবা নদীর রহনপুর গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৫৩ মিটার, বিপৎসীমা ২১ দশমিক ৫৫ মিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন,বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী শুক্রবার পর্যন্ত জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। এরপর পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সময়ের মধ্যে জেলার তিনটি নদীর কোনোটিরই বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই। তবে পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে। এ কারণে নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।


