মো. মাসুদ তালুকদার, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পানির অপর নাম জীবন। অথচ পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরবাসীর সেই পানিই এখন চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রান্না, গোসল, অজু ও গৃহস্থালির কাজে পানির সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী ও পরিবারগুলো।
শহরের অধিকাংশ পুকুর-জলাশয় ভরাট হয়ে বসতবাড়ি গড়ে ওঠায় পৌরসভার সরবরাহ করা পানিই এখন অনেক পরিবারের একমাত্র ভরসা।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৪ হাজার ৮৬০ জন গ্রাহকের দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ২৮ লাখ লিটার। বিপরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকলেও ১৫ থেকে ২০ লাখ লিটারের বেশি পানি উত্তোলন করা সম্ভব হয় না। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর সচল না থাকায় পানি সরবরাহ আরও ব্যাহত হয়।
এর মধ্যে প্রায় ৭০ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এতিমখানা এলাকার একটি পানির পাম্প হাউস চালুর পর প্রায় ৫৭ লাখ লিটার পানি উত্তোলন করা হলেও অনবরত বালু ওঠায় সেটি বন্ধ রয়েছে। পাম্পটি নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, নকশা না মানা এবং কারিগরি ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, UPVC পাইপে যথাযথ কেচিং দেওয়া হয়নি। মূল পাইপের সঙ্গে ছয় ইঞ্চি সংযোগ পাইপ নির্ধারিত গভীরতার পরিবর্তে মাত্র ১০ সেন্টিমিটার নিচে বসানো হয়েছে। ফিল্টার ও বৈদ্যুতিক সংযোগেও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। পাম্প চালু করতে গিয়ে পানি শাখার এক কর্মী আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
পাম্প নির্মাণ নিয়ে নাগরিকদের লিখিত অভিযোগের পর পৌর প্রশাসক সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তবে প্রতিবেদন দাখিলের পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
পাম্পটির কাজ টেন্ডারে বরগুনার কামাল এন্টারপ্রাইজ পেলেও বাস্তবে স্থানীয় কয়েকজন কাজটি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. কামাল খান বলেন, পাম্প হাউসটি আমার লাইসেন্সে ওরা চার-পাঁচজন করেছে। যেহেতু কাগজে-কলমে এটি আমি করেছি, তাই এর দায়ভার আমাকেই নিতে হবে।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মজিবুল হায়দার বলেন, এটি আমার যোগদানের আগে নির্মাণ করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাদের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট এসে এটি সচল করবেন। ব্যর্থ হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাম্পটি সচল করার জন্য বলা হয়েছে। তাদের এক বছরের মেইনটেন্যান্সের দায়িত্ব রয়েছে। এ ছাড়া তাদের জামানতের টাকাও জমা আছে।
এদিকে নাগরিকদের দাবি, শুধু পাম্পটি সচল করলেই হবে না। পানি সরবরাহ ব্যবস্থার নির্মাণকাজ, জেনারেটর ক্রয়, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যয় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে পৌরবাসীর জন্য নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


