নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এতদিন নগরীতে মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে এবার সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। নগরীর জনসংখ্যা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও মানুষের চাহিদা বিবেচনায় কুমিল্লায় দ্রুত মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন।
মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লায় মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনের বিষয়ে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠিত হলে কুমিল্লা জেলা পুলিশের ওপর চাপ কমবে এবং নগরীতে পুলিশের জনবল ও সক্ষমতা বাড়ার ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর হয়ে গেছে। কিন্তু এতদিনেও এখানে মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠিত হয়নি। বর্তমান সরকার খুব দ্রুত কুমিল্লায় মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে নগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়বে এবং জেলা পুলিশের ওপর বিদ্যমান চাপও অনেকটা কমে আসবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে কুমিল্লা জেলার সার্বিক সরকারি কার্যাবলী তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে দেশের সব রাজনৈতিক দলের অবস্থান অভিন্ন।
তিনি বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে যার যার অবস্থান থেকে দেশের পররাষ্ট্রনীতি অভিন্ন হওয়া প্রয়োজন। যেকোনো সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
মতবিনিময় সভায় কুমিল্লার চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়ন পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত ও সহজে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ, কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন এবং কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন।
এ ছাড়া কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, জেলা প্রশাসক রোজী আকতার, জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, র্যাব-১১ সিপিসি-২-এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম এবং কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক মীর আলী এজাজসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যক্রম শুরু হলে নগরীর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক কাঠামোর পাশাপাশি পুলিশের জনবল ও কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


