মোহাম্মদ আহসান উল্লাহঃ
একটি পৌরসভা কেবল রাস্তা, ড্রেন, সড়কবাতি কিংবা অবকাঠামোর সমষ্টি নয়—নাগরিকের নিরাপদ জীবন, সহজলভ্য সেবা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাই একটি জনবান্ধব পৌরসভার মূল ভিত্তি। এমন ভাবনা সামনে রেখে কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভাকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেয়র প্রার্থী এডভোকেট বদিউল আলম সুজন।
আইন পেশার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি। বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারির কঠিন সময়ে অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ তাঁকে আলোচনায় আনে।
করোনাকালে যখন সংক্রমণের আশঙ্কায় অনেক মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছিলেন, তখন আক্রান্ত ও অসহায় মানুষের প্রয়োজন মেটাতে এগিয়ে আসেন এডভোকেট বদিউল আলম সুজন। তাঁর উদ্যোগে করোনা আক্রান্তদের জন্য খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, অক্সিজেন সরবরাহ এবং মৃতদের দাফন-কাফনের মতো মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে। সংকটের সেই সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এসব উদ্যোগকে তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন সমর্থকেরা।
তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, করোনাকালের বাইরে বিভিন্ন সময়েও শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা, মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গেও তিনি কাজ করেছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
সম্প্রতি তাঁর উদ্যোগে লাকসামে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে খৎনা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একইভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা জানা গেছে।
এসব কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতাকে এবার পৌর নাগরিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে চান মেয়র প্রার্থী এডভোকেট বদিউল আলম সুজন। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে পরিচ্ছন্ন নগর, উন্নত সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সড়কবাতি, নাগরিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দ্রুত ও সহজ পৌরসেবা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি পৌরসভার কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
এডভোকেট বদিউল আলম সুজন বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নাগরিক সেবা। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, পৌরসভা এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া উচিত, যেখানে একজন সাধারণ নাগরিক কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন। একই সঙ্গে পৌর কর্তৃপক্ষকেও নাগরিকদের কাছে জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে।
তাঁর মতে, একজন জনপ্রতিনিধির সাফল্য শুধু উন্নয়ন প্রকল্পের সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। সাধারণ মানুষ কতটা স্বস্তিতে সেবা পাচ্ছেন, বিপদের সময় জনপ্রতিনিধিকে কতটা পাশে পাচ্ছেন এবং পৌরসভার প্রতি নাগরিকের আস্থা কতটা বাড়ছে—এসবই জনপ্রতিনিধির সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।
আইন পেশাতেও রয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা। তিনি ২০১২ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ লাভ করে আইন পেশায় যুক্ত হন। পরে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বারের সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে আইন পেশা পরিচালনার সুযোগ পান।
লাকসাম পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর প্রচারণায় এখন গুরুত্ব পাচ্ছে ‘সেবা, সততা ও মানবিকতা’র বার্তা। তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক অংশগ্রহণ কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে—সেটিই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর সমর্থকদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা যদি পৌর প্রশাসনের কার্যক্রমে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে নাগরিক সেবায় নতুন ধারা তৈরি হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের কাছে তাঁর প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতাই নির্বাচনী মাঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হয়ে উঠবে।


