Homeসারাদেশজেলার খবরচুয়াডাঙ্গায় সার ডিলার নিয়োগে ৪৫টি ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪৩টি আবেদন জমা

চুয়াডাঙ্গায় সার ডিলার নিয়োগে ৪৫টি ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪৩টি আবেদন জমা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২০২৬ সালের সার ডিলার নিয়োগে চার উপজেলায় মোট ৪৫টি ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪৩টি আবেদন জমা পড়েছে। ফলে প্রতিটি ডিলারশিপের বিপরীতে গড়ে প্রায় ১৪ জন আবেদনকারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কৃষকদের কাছে সময়মতো ও নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছে দিতে সক্ষম যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিরাই যেন ডিলারশিপ পান—এমন প্রত্যাশা কৃষক মহলের।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১১টি ডিলারশিপের বিপরীতে ১৭৪টি আবেদন জমা পড়েছে। আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৬টি ডিলারশিপের জন্য আবেদন পড়েছে ১৯৮টি। দামুড়হুদা উপজেলায় ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৯টি ডিলারশিপের বিপরীতে ১৬০টি আবেদন জমা পড়েছে। আর জীবননগর উপজেলায় ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৯টি ডিলারশিপের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ১১১টি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সার ডিলারশিপ শুধু ব্যবসায়িক অনুমোদন নয়; এটি কৃষকের খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মৌসুমে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপি ও অন্যান্য সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হলে কৃষক সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে পারেন। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমে, অতিরিক্ত দামে সার কেনার প্রবণতা রোধ হয় এবং কৃষকের খরচ ও ভোগান্তি দুটিই কমে।

২০২৬ সালের সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালার আলোকে প্রথমে আবেদনপত্রগুলো জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। যাচাই শেষে দুই কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনপত্র উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠানো হবে। উপজেলা কমিটি তথ্য যাচাই করে প্রতি ইউনিয়নের জন্য নতুন ডিলার নিয়োগের লক্ষ্যে বিধিমালা অনুযায়ী তিনজন যোগ্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করবে। উপজেলা কমিটির প্রস্তাবিত প্রত্যেক প্রার্থীর তথ্য জেলা কমিটি পুনরায় যাচাই করবে। এরপর প্রতি ইউনিয়নের জন্য তিনজন প্রার্থীর প্রস্তাব সার ডিলার সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে পাঠানো হবে। কেন্দ্রীয় কমিটি প্রস্তাবিত প্রার্থীদের আবেদনপত্র ও তথ্য যাচাই-বাছাই করে ইউনিয়নপ্রতি একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে। পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত ডিলার নিয়োগ অনুমোদন করা হবে।অনুমোদনের পর জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম কিংবা শুধু কাগুজে যোগ্যতার পরিবর্তে পর্যাপ্ত গুদাম, আর্থিক সক্ষমতা, সারের বাজারজাতকরণে অভিজ্ঞতা, সততা ও কৃষকবান্ধব মনোভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এতে চুয়াডাঙ্গার কৃষকেরা সঠিক সময়ে নির্ধারিত মূল্যে সার পাবেন এবং কৃষি উৎপাদনও অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরল ইসলাম বলেন, “৪৫টি ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪৩টি আবেদন জমা পড়েছে। কোনো ধরনের বিবেচনায় নয়, ২০২৬ সালের নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থীরাই ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাবেন।”

উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ছিল আবেদনের শেষ দিন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments