মশিউর রহমান সেলিম, কুমিল্লা:
লাকসামে সম্পত্তির জের ধরে ৪ পরিবারকে গ্রাম্য সালিশদাররা নানাহ অজুুহাত তুলে সমাজচ্যুত করে প্রকাশ্যে এলাকায় মাইকিং করায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এ নিয়ে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রবাসী পরিবার সহ ভুক্তভোগী ৪ পরিবারের নারী-পুরুষ, শিশু, কিশোরদের সকল সদস্যরা গৃহবন্দী হয়ে মানবেতর দিনযাপন এবং আতংক অবস্থায় রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লাকসাম উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে মমিন আলীর সঙ্গে একই গ্রামের মৃত আবদুর রশিদের ছেলে আলমগীর হোসেনের সাথে সম্পত্তির নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ ব্যাপারে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ বসলেও কোন সুরাহা না হলে চলতি আগস্ট মাসের ২০ তারিখে পূর্নাঙ্গ সালিশ বসার সিদ্ধান্ত দিলো গ্রাম্য সালিশদাররা। এরই মধ্যে আলমগীর গংদের নানাহ অত্যচারের অভিযোগ এনে মৃত আবদুর রহমানের ছেলে মমিন আলী বাদী হয়ে জেলা ম্যাজিষ্টেট কোর্টে পর পর ৩টি মামলা দায়ের করেন বিবাদীদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবং সামাজিক সালিশদারদের অমান্য করায় (১০ আগষ্ট) সোমবার মাইকিং করে প্রবাসী সহ ৪ পরিবারের নাম উল্লেখ করে সমাজচ্যুত করার ঘোষণা করে সমাজ কমিটির লোকজন। মাইকিং প্রচারনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ ফেইসবুকে পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে এলাকার সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। শালিসদারদের নির্দেশে সমাজচ্যুতরা হলেন ঐ গ্রামের ইছাপুরা উত্তর পাড়া হাজী আবদুর রহমানের পরিবারের সকল সদস্যদের মধ্যে আবদুর রাজ্জাকের পিতা মমিন আলী, হাসানের পিতা আবুল খায়ের আবু, আবদুর রশিদ ও প্রবাসী কোরবান আলী প্রমুখ। সমাজের সকল সাধারণ জনগণের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য,লেনদেন করা ও তাদের সাথে দোকানে চলাফেরা না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মমিন আলী বলেন, ‘মাইকে ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে দোকানদাররা আমাদের কাছে কোনোকিছু বিক্রি করছে না। ছোট বাচ্চারা দোকানে গেলেও তাদের কাছে কোনও খাবারও কিনতে দেওয়া হচ্ছে না। এখনও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। থানায় বিষয়টি জানানো হলে পরদিন মঙ্গলবার সকালে পুলিশের একটি টিম আমাদের বাড়িতে আসে এবং আমাদের কাছ থেকে বিস্তারিত শুনেন। অভিযুক্ত আলমগীর আমাদের বাড়িতে কোন সম্পত্তি পাওনা নাই।
অভিযুক্ত আলমগীর হোসনে বলেন, আমার সাথে মমিন আলীগংদের সঙ্গে সম্পত্তির বিরোধ বিষয়টি সঠিক। সেই বিষয়টি আমাদের গ্রামের সমাজদের মাতব্বররা দেখছে। কিন্তু তাদের ৪ পরিবারের সদস্যদের সমাজচ্যুত করার জন্য মাইকে ঘোষণা আমি দেই নাই, মাইকিং করার ‘ঘোষণা দিয়েছে ইছাপুরা পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ার দুই সমাজ কমিটির লোকজন। আপনারা তাদের সাথে কথা বললে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
দরবারে উপস্থিত থাকা পাশ^বর্তী গ্রামের সমাজ মাতব্বর মনির হোসেন বলেন, মমিন আলী গং ও আলমগীর হোসনের মধ্যে জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে একাধকি গ্রাম্য সালিশ বসেছে এবং সমাধান করার জন্য চলতি মাসের ২০ তারিখে উভয়পক্ষের সঠিক কাগজপত্র নিয়ে বসার কথা রয়েছে কিন্তু নানান কারণে মমিন আলী গং সমাজের লোকজনকে অমান্য করে তিনি আদালতে একাধিক মামলা করায় মমিন আলী গংদের ৪ পারিবারের সদস্যদেরকে সমাজচ্যুত করার ঘটনা প্রকাশ্যে মাইকে ঘোষণা দেওয়ায় খুবই দুঃখজনক ঘটনা।
ইছাপুরা ৫নং ওর্য়াডের বিএনপির সভাপতি ও সামাজিক সর্দার বলেন, চলতি মাসের ২০ তারিখে পুনরায় সমাজে শালিসি বৈঠকের মাধ্যমে আলমগীর হোসেন ও মমিন আলী গংদের দুই পক্ষের লোকজন পছন্দের প্রতিনিধি ২ জন করে জুড়িতে যাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত হয়।কিন্তু মমিন আলী সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে আদালতে আলমগীর গংদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মমিন আলীর ৪ পরিবারের সদস্যদেরকে সমাজচ্যুত মাইকে ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লাকসাম থানার অফিসার ইনর্চাজ কাজী কামরুন নাহার লাইলী জানান, ওই গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে গ্রাম্য সালিশির মাধ্যমে সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের লোকজন একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ বসে। চলতি মাসের ২০ তারিখে পুনরায় বসার সিদ্ধান্ত থাকলেও এক পক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করলে বিষয়টি নিয়ে গ্রামে নানান ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনা নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় একটি মাইকে ঘোষণা দিয়ে মমিন আলী গংদের ৪ পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে দেখতে পাই। খবর নিয়ে মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় পরিদর্শন ও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বুধবার উভয়পক্ষকে থানায় আসার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাত দুস্কৃতিকারীরা মমিন আলী গংদের বাড়ি ঘরে হামলা চালায়। এ ব্যাপারে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছে।


