জামালপুর প্রতিনিধি :
জানালা দিয়ে ভেসে আসছিল দুই শিশুর আর্তনাদ। তারা ‘পানি পানি’ বলে চেঁচাচ্ছিল আর গ্রিলের বাইরে হাত বের করে নাড়াচ্ছিল। ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলা থেকে ভেসে আসা আর্তনাদ অবশেষে পথচারীদের কানে পৌঁছায়। তাদের কান্নাকাটি ও বারবার পানি চাইতে থাকা আকুতিতে সন্দেহ হলে উৎসুক পথচারীরা বাড়ির মালিককে অবগত করে বিষয়টি। তখনই পঞ্চম তলায় গিয়ে দেখা যায় ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। এমনই লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা করেছেন স্থানীয়রা।
২৩ আগস্ট সকালে জামালপুর শহরের শেখের ভিটা রেলক্রসিং এলাকার একটি ছয়তলা ভবনে ঘটেছে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা।
স্থানীয়রা আরও জানায়, উপায়ন্তর না পেয়ে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বাইরে থেকে সিটকিনি লাগানো একটি কক্ষ থেকে শিশু দুটিকে জীবিত উদ্ধার করেন উপস্থিত লোকজন। অন্য একটি কক্ষে পড়ে থাকতে দেখা যায় ওই শিশু দুটির মা ইসরাত জাহানের নিথর দেহ। বিষয়টি জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে এসে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়দের ধারণা, দাম্পত্য কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছেন ওই গৃহবধূর স্বামী। পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়া শিশু দুটি ওই গৃহবধূর আগের স্বামীর। বর্তমান স্বামী ও ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাসের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য দিতে পারেনি বাড়ির মালিক।
উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর মধ্যে স্নেহার বয়স ১০ বছর এবং মমিন শাহরিয়ার বয়স পাঁচ। তারা ওই গৃহবধূর আগের স্বামী কাউসার আহাম্মেদ শাওনের সন্তান। নিহত গৃহবধূ শেরপুরের শ্রীবর্দী এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেনের মেয়ে।
ওই গৃহবধুর মায়ের বরাত দিয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, ইসরাত জাহানের আগের স্বামী কাউসার আহাম্মেদ শাওন মারা যাবার পর গোপনে অজ্ঞাত এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয়। তারা শেখেরভিটা এলাকায় একটি ছয়তলা ভবনের পাঁচতলার ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। তবে ফ্ল্যাটের মালিক ওই গৃহবধূর বর্তমান স্বামীর নাম-ঠিকানা ও পরিচয় দিতে পারেন নি।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন- ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ উদঘাটন এবং ওই গৃহবধূর পরিচয় না পাওয়া বর্তমান স্বামীর বিষয়ে তদন্ত চলছে।


