লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
আসন্ন লাকসাম পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ২নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ আবু বকর জাহিদ। গত ২২ আগস্ট লাকসাম পৌরসভা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জামায়াতের ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলনে ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
মুহাম্মদ আবু বকর জাহিদের প্রার্থিতাকে ঘিরে ২নং ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী আলোচনায় তিনি নাগরিক সেবা, এলাকার উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন—এমন একটি সেবামুখী প্রচারণার বার্তা তাঁর প্রার্থিতাকে ঘিরে সামনে এসেছে।
লাকসাম পৌরসভা ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং বর্তমানে পৌরসভাটিতে ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। পৌরসভার সরকারি তথ্য অনুযায়ী নাগরিকদের মানসম্মত সেবা, পরিচ্ছন্নতা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও টেকসই শহর গঠনের বিষয়গুলো পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যয়:
কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে মুহাম্মদ আবু বকর জাহিদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ওয়ার্ডবাসীর প্রত্যাশাকে বাস্তব উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা। একজন জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব হিসেবে নাগরিকদের সমস্যাগুলো নিয়মিতভাবে শুনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা, সরকারি সেবার সুযোগ সহজ করা এবং এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় পর্যায়ে একজন কাউন্সিলর সরাসরি নাগরিকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান। ফলে নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি ভূমিকা রাখতে পারেন।
উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রত্যাশা:
২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা—নির্বাচনে যিনিই নির্বাচিত হন, তিনি যেন দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কাজ করেন। বিশেষ করে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নাগরিক সেবা সহজীকরণ এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
জামায়াতের লাকসাম পৌরসভা নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণার সময় দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচিত হলে প্রার্থীরা দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং মানবিকতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন।
এদিকে লাকসাম পৌরসভার ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডের পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদেও প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে মুহাম্মদ আবু বকর জাহিদের প্রার্থিতা সেই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও সরব করে তুলেছে।
জনগণের আস্থাই বড় শক্তি:
নির্বাচনী রাজনীতিতে একজন প্রার্থীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের আস্থা। মুহাম্মদ আবু বকর জাহিদের ক্ষেত্রেও ওয়ার্ডবাসীর সঙ্গে সুসম্পর্ক, মানুষের কথা শোনা এবং বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই হোক না কেন, একজন কাউন্সিলরের কাছে জনগণের প্রত্যাশা মূলত একটাই—কথার চেয়ে কাজে মানুষের পাশে থাকা। এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারলেই একজন জনপ্রতিনিধি দীর্ঘমেয়াদে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন।
মুহাম্মদ আবু বকর জাহিদের প্রার্থিতা তাই শুধু একটি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; ২নং ওয়ার্ডের নাগরিকরা তাঁর কাছে কেমন নেতৃত্ব, সেবা ও উন্নয়ন প্রত্যাশা করেন—নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারও একটি প্রতিফলন ঘটবে।


