Homeরাজধানীমির্জাগঞ্জে সন্ত্রাসী সোহাগ বাহিনীর হামলায় চারমাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভপাত, থানায় মামলা

মির্জাগঞ্জে সন্ত্রাসী সোহাগ বাহিনীর হামলায় চারমাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভপাত, থানায় মামলা

রিপোর্টার ॥
বরিশাল পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলায় সন্ত্রাসীদের ভয়াবহ হামলায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী মাহিনুর বেগম-এর গর্ভপাত হয়েছে। বোনকে বাঁচাতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে ভাই শাহরিয়ার আহমেদ। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত ভাই-বোনকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলেও, অবস্থা অবনতি হওয়ায় মাহিনুরকে ১৩ জুন বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। আহত মাহিনুরের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন কর্মরত চিকিৎসক।
এ হামলার ঘটনায় চলতি বছরের ১১ জুন শাহরিয়ার আহমেদের স্ত্রী সারমিন সুলতানা বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় মামলা (নং-৮/২৬) দায়ের করেন এবং ১০ জুন বিকেল সাড়ে চারটায় বাদীর শ্বশুর নূরুল ইসলামের বসতঘরের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।দায়েরকৃত মামলার আসামি হলেন- মির্জাগঞ্জ উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেন মৃধার ছেলে সোহাগ মৃধা (৩৫), আনেচ সিকদারের ছেলে সাদ্দাম সিকদার (৩৫) ও মৃত ছন্দু হাওলাদারের ছেলে সানোয়ার হাওলাদার (৩৫) সহ অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন।

জানা গেছে, ঘটনার দিন পারিবারিক বিষয় নিয়ে ভাই শাহরিয়ার ও বোন মাহিনুরের মধ্যে কথা হয়। ছেলে-মেয়ের সাথে রাগ করে তাদের মা রাগ করে পার্শ্ববর্তী বাপের বাড়ি গিয়ে ভাইদের কাছে নালিশ দেয়। এরপরই কোনো কথাবার্তা ছাড়াই সোহাগের নেতৃত্বে আসামি সহ অজ্ঞাতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বসতঘরে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চারমাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী মাহিনুরকে বেদম মারধর করে। বোনকে বাঁচাতে গিয়ে মারাত্মক আহত হয় ভাই শাহরিয়া। আহতদের ডাক চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে অন্তঃসত্ত্বা মাহিনুর বেগমের রক্তপাত (ব্লিডিং) শুরু হয়। অভিযুক্ত সোহাগ মৃধা পর্ণগ্রাফি, চাঁদাবাজি ও মাদক মামলা সহ কয়েকটি মামলার আসামি।

ভুক্তভোগী মাহিনুর বেগম বলেন, দীর্ঘ বছর আমি প্রবাসে কাটিয়েছি। জীবনের বড়ো সময়টাই বাবা মায়ের জন্য বিদেশে থেকে আয় করেছি। কয়েক মাস আগে দেশে এসেছি। গর্ভধারণের মাধ্যমে প্রথম মা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমার নানা বাড়ির লোকজনদের অতর্কিত হামলায় আমার গর্ভপাত হয়েছে। আমার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। আমার গর্ভের সন্তান হত্যার দাবিতে বিচার চাই।

প্রধান অভিযুক্ত সোহাগ মৃধা বলেন, শুনেছি ওরা দুই ভাইবোন মিলে ওর মাকে মারধর করেছে। তা জিজ্ঞেস করতে গিয়ে রুবেলকে চড় থাপ্পড় দিয়েছি। যাওয়ার পথে আমাদের উপর হামলার চেষ্টা করলে রুবেলকে হালকা মারধর করি। তবে মাহিনুরকে আমি মারধর করিনি।

এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত খান নুরুল ইসলাম বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। অতিদ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।

পটুয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ (বিপিএম) বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments